দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ হিন্দু হলে তাকে দেশভক্ত হতেই হবে, এমনটাই মনে করেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর মতে দেশভক্ত হওয়া কোনও হিন্দুর মূল চরিত্র ও প্রকৃতি। এই প্রসঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ধর্ম থেকেই দেশপ্রেমের জন্ম হয়।
সম্প্রতি একটি বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে এই মন্তব্য করেন মোহন ভাগবত। জে কে বাজাজ ও এম ডি শ্রীনিবাসের বই ‘মেকিং অফ এ হিন্দু প্যাট্রিয়ট: ব্যাকগ্রাউন্ড অফ গান্ধিজি’স হিন্দ স্বরাজ’ নামক বইটি তাঁর হাতেই প্রকাশিত হয়।
বই প্রকাশের পরে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে সঙ্ঘ পরিবার গান্ধীজির কথা যথাযথ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের কোনও বিষয় নয়। কারণ কেউ গান্ধীজির মতো মানুষের কথাকে যথাযথ প্রমাণের চেষ্টা করতে পারে না। সেই কথা এমনিতেই যথাযথ। মহাত্মা গান্ধীর বিষয়ে অনেক গভীরে বিশ্লেষণ করেই এই বই লেখা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভাগবত বলেন, তাঁর কাছে ধর্ম ও দেশপ্রেম আলাদা নয়। কারণ দেশের প্রতি ভালবাসার জন্ম হয় আধ্যাত্মিকতা থেকেই।
এরপরেই মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্য তুলে ধরেন সরসঙ্ঘ প্রধান। তিনি বলেন, “গান্ধীজি বলেছিলেন কারও ধর্ম থেকেই দেশপ্রেমের জন্ম হয়। তবে ধর্ম মানে শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম নয়। তার একটা বৃহত্তর দিক রয়েছে। যদি কেউ হিন্দু হন, তাহলে তাঁকে দেশভক্ত হতেই হবে। এটাই তাঁর চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট। কোনও কোনও সময় আপনাকে হয়তো তাঁদের মধ্যেকার দেশভক্তি জাগিয়ে তুলতে হবে, কিন্তু তাঁরা কখনও দেশবিরোধী হবেন না। কিন্তু আমাদের এক্ষেত্রে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, কেউ তাঁর দেশকে ভালবাসেন মানে শুধু জমিকে নয়, দেশের মানুষ, নদী, সংস্কৃতি, সবকিছুকে ভালবাসেন। হিন্দুধর্ম ঐক্যে বিশ্বাস করে।”
মোহন ভাগবত আরও বলেন, “পার্থক্য মানেই বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়। গান্ধীজি বলেছেন হিন্দুধর্ম হল সব ধর্মের সেরা ধর্ম।” এই মনোভাব হিন্দুদের মধ্যে জাগিয়ে তোলার জন্যই সঙ্ঘ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।