দ্য ওয়াল ব্যুরো: হটস্পট এলাকা ও কন্টেইনমেন্ট জোনে অন্তত ৩০ শতাংশ মানুষ অজান্তেই করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। আবার অজান্তেই তাঁদের সংক্রমণ সেরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ।
আইসিএমআরের তরফে দেশের ৬০ টি জেলায় ও ছ'টি আর্বান হটস্পট যেমন কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, পুনে ও আহমেদাবাদে এই সেরো - সার্ভে করে দেখা হয়েছে। সেরো - সার্ভের মাধ্যমে রক্তের সেরাম নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয় সেখানে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি রয়েছে কিনা। প্রতিটি এলাকা থেকে অন্তত ৫০০ জনের রক্তের নমুনা নিয়ে প্রায় ৩০ হাজার নমুনার অ্যালাইজা অ্যান্টিবডি টেস্ট করে দেখা হয়েছে।
এই টেস্ট করে দেখো গিয়েছে মুম্বই, দিল্লি, পুনে ও আহমেদাবাদে অন্তত ৩০ শতাংশ বাসিন্দাদের রক্তে কোভিড অ্যান্টিবডি রয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা আক্রান্ত হয়ে ফের সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু নিজেরাই জানতে পারেননি। গ্রামাঞ্চলে এই শতাংশ খুবই কম বলে জানিয়েছে আইসিএমআর। গ্রামাঞ্চলে ০.৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে এই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
এই গবেষণার উপর ভিত্তি করেই আইসিএমআর জানিয়েছে, দেশে এখনও গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব বলেন, "গত কয়েক দিন ধরে এই গোষ্ঠী সংক্রমণের বিষয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে এর কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। তাই আমরা বলতে পারি আমাদের দেশে খুব বেশি হলে ১ শতাংশ এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শহুরে এলাকায় হয়তো আর একটু বেশি হয়েছে। কন্টেইনমেন্ট জোনে আর একটু বেশি। তাই কখনই বলা যাবে না দেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে।"
গোষ্ঠী সংক্রমণ হল করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ধাপ। যখন একটা বড় অংশের আক্রান্তের ক্ষেত্রে কোথা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, অর্থাৎ সংক্রমণের উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না তখন তাকে গোষ্ঠী সংক্রমণ বলে।
মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে ক্রমাগত সংক্রমণ বাড়ার পরে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেন, "দিল্লিতে প্রায় ৫০ শতাংশ আক্রান্তের উৎস চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তাই মনে হচ্ছে এখানে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। অবশ্য সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন দিল্লিতে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র তা মানতে নারাজ। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই কেন্দ্র না বলা পর্যন্ত আমরা এই বিষয়ে কিছু বলতে পারি না। গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।"
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "বর্তমানে অনেক জায়গায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হচ্ছে। তাই অনেক সময় আক্রান্তের উৎস খুঁজে বের করতে সময় লাগে। তার মানে এই নয় যে আক্রান্তের উৎস নেই। তার মানে এই নয় যে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে।"