দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরচক্র সম্মানের জন্য উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের নাম সুপারিশ করল ভারতীয় বায়ুসেনা। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয়ের পুরস্কার স্বরূপ এই বীরচক্র সম্মান তুলে দেওয়া হয় সেনাদের হাতে। সর্বোচ্চ সম্মান পরমবীর চক্র, তারপর মহাবীর চক্র এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান বীরচক্র। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, অভিনন্দন বর্তমান ছাড়াও এ বছর বীরচক্র সম্মানের জন্য বায়ুসেনার মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের আরও ১২ জন পাইলটের নাম সুপারিশ করেছে বায়ুসেনা।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপোরার কাছে লেথপোরায় জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের উপর সিআরপিএফ-এর কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। আত্মঘাতী এই হামলায় শহিদ হন ৪৪ জন জওয়ান। ফিদাঁয়ে হামলার দায় স্বীকার করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় পাল্টা প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় বায়ুসেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে অবস্থিত জইশের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সক্রিয় ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় বায়ুসেনা। এর পরের দিন ভারতের ভূখণ্ডে হানা দেয় পাক যুদ্ধবিমান। সেই সময়েই মিগ-২১ জেট বাইসনের সাহায্যে পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ গুলি করে নামান উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন। সেই সময় নিয়ন্ত্রণোরেখা পেরিয়ে পাক ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তাঁর যুদ্ধবিমান। আহত অবস্থায় পাক সেনার হাতে বন্দি হন অভিনন্দন বর্তমান। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পর তাঁকে মুক্তি দেয় ইসলামাবাদ।
তবে দেশে ফেরার পর উৎসবে যোগ দেননি অভিনন্দন। বরং সেনা হাসপাতালে চিকিৎসার পরেই যোগ দিয়েছিলেন শ্রীনগরের বায়ুসেনার স্কোয়াড্রনে। মেরুদণ্ডে চোট, পাঁজরের হাড়ে চিড়, দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পাক সেনার হাতে মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচারের পরেও নিজের কর্তব্য পালনে উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন ছিলেন একনিষ্ঠ। শোনা গিয়েছে, খুব তাড়াতাড়িই ফের ককপিটেও ফিরতে চলেছেন তিনি। নতুন পোস্টিংয়ের জায়গা ও দিনক্ষণও একদম পাকা। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তাঁর নতুন কর্মক্ষেত্রের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। কিন্তু বায়ুসেনা সূত্রে খবর, ওয়েস্টার্ন সেক্টর অর্থাৎ পাক সীমান্ত লাগোয়া এলাকার এয়ার বেসেই তাঁকে পাঠানো হতে পারে। দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পাক সীমান্তের এই এয়ার বেসের গুরুত্ব রয়েছে এবং ৩৫ বছরের এই সাহসী কম্যান্ডার সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করতে পারবেন বলে মত বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের।