দ্য ওয়াল ব্যুরো: সহকর্মীদের সঙ্গে জমিয়ে মজা করছেন তিনি। মুখে চওড়া গোঁফের আড়ালে শোভা পাচ্ছে প্রাণখোলা হাসি। অনেকদিন পর ফের চেনা মেজাজে দেখা গেল বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে নিজের পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিনন্দন। আর সেখানেই সতীর্থদের সঙ্গে দেদার সেলফি তুলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
তবে উইং কম্যান্ডার অবশ্য জানিয়েছেন যে এইসব ছবি তাঁর সহকর্মী-বন্ধুদের জন্য নয়। বরং তাঁদের পরিবারের জন্য। অভিনন্দন বলেন, "ওঁদের সবার পরিবার আমার সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। সবার সঙ্গে আমি ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করতে পারিনি। তাই ওঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতেই এ দিন সকলের সঙ্গে সেলফি তুলেছি।" সংবাদসংস্থা এএনআই এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনেছে। আর সেখানে দেখা গিয়েছে সবার সঙ্গেই সেলফি তোলার সময় অভিনন্দন বলছেন, "এটাই কিন্তু শেষ। আর নয়।" কিন্তু পরমুহূর্তেই হাসিমুখে আর এক সহকর্মীর সঙ্গে সেলফি তোলার জন্য এগিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে অভিনন্দনকে। তারপরেই আবার 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান তুলে সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন তিনি। সঙ্গে অবশ্যই ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও ছিল জয়ধ্বনি।
অভিনন্দন জানিয়েছেন, পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর এই প্রথম পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। তাই উত্তেজনা-উন্মাদনা সবই ছিল খানিক বেশি। এ দিন তাই জমিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করছেন তিনি। ফ্রেমে বন্দি করেছেন বিশেষ মুহূর্তও।
https://twitter.com/ANI/status/1124685517612670976
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপোরার কাছে লেথপোরায় জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের উপর সিআরপিএফ-এর কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। আত্মঘাতী এই হামলায় শহিদ হন ৪৪ জন জওয়ান। ফিদাঁয়ে হামলার দায় স্বীকার করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় পাল্টা প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় বায়ুসেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে অবস্থিত জইশের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সক্রিয় ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় বায়ুসেনা। এর পরের দিন ভারতের ভূখণ্ডে হানা দেয় পাক যুদ্ধবিমান। সেই সময়েই মিগ-২১ জেট বাইসনের সাহায্যে পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ গুলি করে নামান উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন। সেই সময় নিয়ন্ত্রণোরেখা পেরিয়ে পাক ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তাঁর যুদ্ধবিমান। আহত অবস্থায় পাক সেনার হাতে বন্দি হন অভিনন্দন বর্তমান। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পর তাঁকে মুক্তি দেয় ইসলামাবাদ।
দেশে ফেরার পর দিল্লির সেনা হাসপাতালে চলেছিল অভিনন্দনের চিকিৎসা। গোটা দেশ তখন তাঁকে নিয়ে উৎসবে মেতেছিল। তবে নিজে সে সব উৎসবে যোগ দেননি অভিনন্দন। বরং মেরুদণ্ডে চোট, পাঁজরের হাড়ে চিড়, দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পাক সেনার হাতে মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচারের পরেও নিজের কর্তব্য পালনে একনিষ্ঠ ছিলেন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। শোনা গিয়েছে, খুব তাড়াতাড়িই ফের ককপিটেও ফিরতে চলেছেন তিনি। নতুন পোস্টিংয়ের জায়গা ও দিনক্ষণও একদম পাকা। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তাঁর নতুন কর্মক্ষেত্রের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। কিন্তু বায়ুসেনা সূত্রে খবর, ওয়েস্টার্ন সেক্টর অর্থাৎ পাক সীমান্ত লাগোয়া এলাকার এয়ার বেসেই তাঁকে পাঠানো হতে পারে। দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পাক সীমান্তের এই এয়ার বেসের গুরুত্ব রয়েছে এবং ৩৫ বছরের এই সাহসী কম্যান্ডার সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করতে পারবেন বলে মত বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের।
এর মধ্যেই বীরচক্র সম্মানের জন্য উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের নাম সুপারিশ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয়ের পুরস্কার স্বরূপ এই বীরচক্র সম্মান তুলে দেওয়া হয় সেনাদের হাতে। সর্বোচ্চ সম্মান পরমবীর চক্র, তারপর মহাবীর চক্র এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান বীরচক্র। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, অভিনন্দন বর্তমান ছাড়াও এ বছর বীরচক্র সম্মানের জন্য বায়ুসেনার মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের আরও ১২ জন পাইলটের নাম সুপারিশ করেছে বায়ুসেনা।