দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডামাডোল চলছেই। শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের বিধায়কপদ খারিজ করা নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার কথা আজ। তার মধ্যেই রাজস্থানের রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। সূত্রের খবর, তিনি রাজ্যপালের কাছে দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এই সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একটি অধিবেশন তিনি শিগগির ডাকবেন বলে জানিয়েছেন গেহলট।
বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন গেহলট। রাজস্থানে ডামাডোল শুরু হওয়ার পরে এই নিয়ে তিনবার রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। জানা গিয়েছে, রাজভবনে গিয়ে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে যতজন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাতে সরকার ধরে রাখার ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। বিধানসভার অধিবেশন ডাকার কথা বললেও কবে তা ডাকবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি গেহলট।
কংগ্রেস শিবিরের এই কার্যকলাপ থেকে পরিষ্কার রাজস্থানে আস্থাভোটের জন্য তৈরি হচ্ছে গেহলট শিবির। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে গেহলট বলেন, “আমরা বিধানসভার অধিবেশন শিগগির ডাকব। আমাদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। সব কংগ্রেস বিধায়করা একজোট রয়েছেন।” এখনও কয়েকজন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে চিন্তা রয়েছে গেহলট সরকারের। কিন্তু তাঁদের ছাড়াও তাঁর সরকারের জিততে কোনও সমস্যা হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। গেহলট বলেন, “ওদের ছাড়াও আমাদের সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর নির্ভর করেই বিধানসভায় যাব এবং তা প্রমাণ করব।”
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাজস্থান হাইকোর্টে একটা বড় শুনানি হওয়ার কথা। কয়েক দিন আগেই বিধানসভার স্পিকার সি পি যোশী পাইলট শিবিরের বিধায়ক পদ খারিজ করা নিয়ে একটি নোটিস পাঠিয়েছিলেন। তিনি ও তাঁর অনুগামীরা মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা দুটি বৈঠকে যোগ না দেওয়াতেই এই নোটিস পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে পাইলট শিবির। সেই আবেদন খারিজ করার জন্য আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন স্পিকার যোশী। কিন্তু তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই বিষয়েই এদিন শুনানি হওয়ার কথা।
এই শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজস্থান সরকার। কারণ, যদি পাইলট শিবির এই ডিসকোয়ালিফিকেশন নোটিসের বিরুদ্ধে করা আইনি লড়াইয়ে জিতে যায়, তাহলে তাঁরা আস্থাভোটে যোগ দেবেন। সেক্ষেত্রে সরকার ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে গেহলটের। অন্যদিকে যদি তাঁরা হেরে যান, তাহলে গেহলট শিবিরের সরকার ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। কারণ গেহলট শিবিরের সমর্থনে রয়েছেন ১০৩ জন বিধায়ক। অন্যদিকে বিজেপির ৭২, পাইলট শিবিরের ১৯ ও আরও কিছু বিধায়ক মিলিয়ে বিরোধীদের কাছে রয়েছে ৯৭ জন বিধায়কের সমর্থন। তাই টক্কর প্রায় সমান সমান। এখন দেখার এই মামলার শুনানিতে কী বলে হাইকোর্ট।