দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এক বাড়িতে চারজনের দেহ পেল পুলিশ। কী কারণে এই ঘটনা তা নিয়ে ধন্ধে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম প্রদীপ। ৪০ বছরের প্রদীপ একটি ভাড়া বাড়িতে তাঁর স্ত্রী স্বাতী ( ৩৫ ) এবং দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। একজনের বয়স ৬ বছর ও অন্যজনের বয়স ২ বছর। হায়দরাবাদের একটি প্রথম সারির ফার্মে চাকরি করতেন প্রদীপ।
জানা গিয়েছে, শনিবার থেকে প্রদীপ বা তাঁর পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে দেখতে পাননি প্রতিবেশীরা। তাই সোমবার সকালে পুলিশে খবর দেন তাঁরা। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেখে শোয়ার ঘরের বিছানায় চারজনের দেহ পড়ে রয়েছে। পুলিশ এসে দেহগুলিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের মেরেছেন প্রদীপ। তারপরে নিজেও সেই খাবার খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি সম্ভবত শনিবার রাতেই হয়েছে। ময়নাদন্তের রিপোর্ট এলে সবটা বোঝা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন প্রদীপ। নিজের বাবাকে চিঠি লিখে সেকথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চিঠি লেখার পরে তা পাঠাননি। প্রদীপের ঘর থেকেই সেই চিঠি উদ্ধার হয়েছে। তাতে লেখা, তিনি তাঁর বাবা-মায়ের উপর বোঝা হয়ে উঠতে চান না। কিন্তু প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বেশ স্বচ্ছল ছিলেন তাঁরা। সবার সঙ্গে হইহই করে থাকতেন। কোনওদিন দেখে মনে হয়নি আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন। আর বড় চাকরিও করতেন প্রদীপ। তাহলে হঠাৎ করে এমন কী হল যাতে সবাইকে মেরে আত্মঘাতী হলেন।
এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সত্যিই আর্থিক কারণে স্ত্রী, সন্তানদের মেরে প্রদীপ আত্মঘাতী হয়েছেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।