অনাথ বাচ্চার জন্য দান করেছিলেন ক্যাব চালক, সেই টাকাতে শেষকৃত্য হল তাঁরই
দ্য ওয়াল ব্যুরো : জন্মের পর থেকেই অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছেন। বুঝতেন তাদের দুঃখ-কষ্ট। তাই বড় হয়ে ক্যাব চালিয়ে যেটুকু জমিয়েছিলেন, সেখান থেকেই দান করেছিলেন একটি এনজিওতে। একজন অনাথ বাচ্চা মারা যাওয়ায় তার শেষকৃত্যের জন্য দান করেছিলেন ৬ হাজার টাকা। ক
শেষ আপডেট: 26 September 2019 06:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো : জন্মের পর থেকেই অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছেন। বুঝতেন তাদের দুঃখ-কষ্ট। তাই বড় হয়ে ক্যাব চালিয়ে যেটুকু জমিয়েছিলেন, সেখান থেকেই দান করেছিলেন একটি এনজিওতে। একজন অনাথ বাচ্চা মারা যাওয়ায় তার শেষকৃত্যের জন্য দান করেছিলেন ৬ হাজার টাকা। কে জানত দু'দিন পরে সেই টাকা তাঁরই শেষকৃত্যের জন্য খরচ করা হবে।
হ্যাঁ, এমনই ঘটনা ঘটেছে নিজামের শহর হায়দরাবাদে। অনাথ আশ্রমে বড় হওয়ার পর ক্যাব চালকের কাজ করতেন বিজয়। সামান্য যা কিছু রোজগার হত, তা নিজের জন্যই খরচ হয়ে যেত। কিছু জমত না বললেই চলে। তার মধ্যে থেকেই কোনও রকমে হাজার ছয়েক টাকা জমিয়েছিলেন বিজয়।
রবিবার সেই টাকা বিজয় দান করেন হায়দরাবাদের একটি এনজিও 'সার্ভ নিডি'কে। এনজিও-র প্রধান গৌতম কুমারের হাতে ৬ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি। সেই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করা হয় এনজিও-র তরফে। বিজয়ের এই অল্প রোজগার থেকেও যে তিনি অনাথ বাচ্চাদের কথা ভেবেছেন, তার জন্য তাঁর প্রশংসা করা হয়। ফেসবুকে এই ভিডিও ভাইরাল হয়। অনেকেই বিজয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেন।
https://www.facebook.com/vijju.vijju.338/videos/2435031023439625/
কিন্তু তার দু'দিন পরেই মঙ্গলবার রাতে বিজয়ের দেহ পাওয়া যায় রেল লাইনে। জানা যায়, ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। একটি সুইসাইড নোটও পায় পুলিশ। তাতে লেখা, জীবনে খুব একা ছিলেন বিজয়। এই একাকীত্ব আর সহ্য করতে পারছিলেন না তিনি। তাই আত্মহত্যা করেছেন। এর জন্য কাউকে দায়ী করেননি এই যুবক।
এই খবর শোনার পর চমকে ওঠেন 'সার্ভ নিডি' ফাউন্ডেশনের প্রধান গৌতম কুমার। যে ছেলেটি দু'দিন আগেই তাঁর কাছে এসে এত হেসে কথা বলল, টাকা দিল, সেই কিনা আত্মহত্যা করেছে। ভাবতেও পারছিলেন না তিনি। অবশেষে বিজয়ের শেষকৃত্যের দায়িত্ব নেয় সেই এনজিও। যে টাকা বিজয় এক অনাথের শেষকৃত্যের জন্য দান করেছিলেন, সেই টাকাতেই তাঁর শেষকৃত্য হয়।