দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেল থেকে বেরনোর পর থেকেই নাকি খোঁজ মিলছে না গুজরাতের পাতিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক পটেলের। ২০ দিন ধরে নিখোঁজ তিনি। এমনটাই অভিযোগ এনেছেন হার্দিকের স্ত্রী কিঞ্জল পটেল। এই ঘটনায় গুজরাত সরকারের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে এই অভিযোগ করেছেন কিঞ্জল। তিনি লিখেছেন, "গত ২০ দিন ধরে আমার স্বামী নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি কোথায় রয়েছেন, সে ব্যাপারে কিছুই জানি না আমরা। জেল থেকে বেরনোর পর থেকে তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারিনি। আমরা খুবই চিন্তায় আছি। আমরা চাই সবার কাছে এই খবটা পৌঁছে যাক। এখন সবাইকে মিলেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।"
হার্দিকের স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর স্বামীর এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পিছনে গুজরাত সরকারের হাত রয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধেও মুখ খুলেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেই তিনি অভিযোগ করেন, "গুজরাত সরকার ২০১৭ সালে বলেছিল পাতিদার নেতাদের উপর থেকে সব মামলা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু সেটা করা হয়নি। দু'জন পাতিদার নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে তাঁদের বিরুদ্ধে কেস তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ হার্দিক কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা সাজানো হচ্ছে। এই সরকার ভয় পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলে হার্দিকের আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে তারা।"
অবশ্য কিঞ্জল তাঁর স্বামীকে নিখোঁজ বললেও গত ১১ ফেব্রুয়ারি দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি জেতার পরে টুইট করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হার্দিক। তার আগের দিনও টুইট করে তাঁর জেলবন্দি থাকার পিছনে গুজরাত সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হার্দিক। পঞ্চায়েত ভোটের আগে পর্যন্ত যাতে তিনি সবার সামনে না আসতে পারেন, গুজরাত সরকার সেই চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
হার্দিক টুইট করে বলেন, "আমার নামে চার বছর আগে একটা মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অথচ গত লোকসভা নির্বাচনের আগে আমি আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনারকে আমার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নাকি নেই। কিন্তু কয়েক দিন আগে আমাকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য বাড়িতে পুলিশ আসে। আমি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছি। তার শুনানি চলছে। আসলে কয়েক দিন পরেই গুজরাতে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তাই আমাকে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাড়াতাড়ি দেখা হবে। জয় হিন্দ।"
https://twitter.com/HardikPatel_/status/1227116137978134528
দেশদ্রোহের একটি মামলায় আহমেদাবাদ আদালতে হাজিরা দিতে না আসায় ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হার্দিক পটেলকে। আর ২৪ জানুয়ারি জেল থেকে বেরানোর পর থেকেই তাঁর স্বামী নিখোঁজ বলে অভিযোগ করলেন কিঞ্জল।