দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই বন্ধ মদের দোকান। এর ফলে মদের কালোবাজারি বাড়ছে। প্রশাসন কড়া হাতে কালোবাজারির মোকাবিলা করায় সহজে মদ বিক্রি অনেকটাই কমেছে। ফলে কী ভাবে বাড়িতে বসেই মদ বানানো যায়, সেই সম্পর্কিত প্রশ্নই এখন গুগলে ট্রেন্ডিং।
জানা গিয়েছে, ভারতে লকডাউন হওয়ার পর থেকেই ভারতে গুগলে সবথেকে বেশি সার্চ করা হয়েছে বাড়িতে মদ বানানোর পদ্ধতি। এর এই পরিসংখ্যান ভাবাচ্ছে সরকারকে। মানুষের এই চাহিদার ফলেই মদের কালোবাজারি বাড়ছে। আর তা রুখতে সমস্যায় পড়ছে প্রশাসন।
মহারাষ্ট্রের আবগারি দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “কালোবাজারি মাত্রাছাড়া শুরু হয়েছে। যে মদ ১৬০-১৭০ টাকায় পাওয়া যায়, তার দাম নেওয়া হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা। তাতেও মানুষ তা কিনছে। পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা চলছে। মুদিখানার দোকান বা দুধের দোকান থেকে দেওয়া হচ্ছে মদ। ফলে এর পিছনে কারা যুক্ত তার নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না।”
শুধুমাত্র বিলিতি মদ নয়, দাম বেড়েছে দেশি মদেরও। সূত্রের খবর, যে দেশি মদ ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া যেত, সেই মদ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে একাধিক জায়গায়। আর এর পিছনে রয়েছে একাধিক চক্র। ফোনে ফোনেই সব কথা হয়ে যাচ্ছে। কোথা থেকে সেই মদের ডেলিভারি হবে তা ফোনেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই সুযোগে অনেকে প্রতারণা চক্রও ফেঁদে বসেছে বলে খবর। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, অনেক জায়গায় অনলাইনে আগে থেকে টাকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। গ্রাহকরা তা দিয়েও দিচ্ছেন। কিন্তু তারপরে আর মদের ডেলিভারি করা হচ্ছে না। কোনও অভিযোগও জানাতে পারছেন না গ্রাহকরা। কারণ পুরোটাই বেআইনি।
কালোবাজারির রমরমার মধ্যে বাড়িতে মদ বানানোর চেষ্টাও করছে অনেকে। গত সপ্তাহেই উত্তরপ্রদেশে বাড়িতে বানানো মদ খেয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি। আর এই ঘটনায় চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। নেশার প্রতি মানুষের এই ঝোঁক কী ভাবে কমানো যায়, সেই পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের মেয়াদ। কেন্দ্রের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। কিন্তু তারমধ্যেই মানুষের চাপে উত্তর-পূর্বের কিছু রাজ্যে মদের দোকান খুলতে হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের এই নির্দেশিকার পরে সারা দেশে সব মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে মদের কালোবাজারি বন্ধ করা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।