দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেই উত্তরপ্রদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের ১৫টি জেলা সিল করে দেওয়ার। দিল্লিতেও ২০টি করোনা হটস্পট সিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অরবিন্ধ কেজরিওয়াল। সেই পথেই এবার হাঁটল মধ্যপ্রদেশ। রাজ্যের ১৫টি জেলায় করোনা হটস্পট সিল করার সিদ্ধান্ত নিল শিবরাজ সিং চৌহান সরকার।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৯। মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। বৃহস্পতিবার ভোরেই করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশের প্রথম ডাক্তারের মৃত্যু হয়েছে ইন্দোরে। এই পরিস্থিতিতে কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি সরকার। সব হটস্পটগুলি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি ভোপাল ও ইন্দোরে। তাই আগে এই দুটি জেলা শাটডাউন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে গত ৩১ মার্চ শিবরাজ সিং চৌহান সিদ্ধান্ত নেন, ইন্দোর শাটডাউন করা হবে। তারপর গত রবিবার মধ্যপ্রদেশ সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়, রবিবার মধ্যরাত থেকে ভোপালও শাটডাউন করা হবে। এই সময় পুলিশ ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ছাড়া কেউ রাস্তায় বেরবেন না। যাতে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের অসুবিধা না হয়, তার জন্য শুধুমাত্র ওষুধের দোকান ও দুধের দোকান খোলা থাকবে বলে জানানো হয়।
এই রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে আমলাদের মধ্যেও। স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্যসচিব পল্লবী জৈন ও স্বাস্থ্য দফতরেরই সংযোগ বিষয়ক অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ডক্টর বীণা সিনহা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার আগে আইএএস অফিসার জে বিজয় কুমার করোনা আক্রান্ত হন। তিনি আয়ুষ্মান নিরাময় সোসাইটির সিইও এবং মধ্যপ্রদেশ পাবলিক হেলথ কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। আমলাদের মধ্যেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মধ্যপ্রদেশে এই মুহূর্তে ১৫টি জেলায় করোনা হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে রাজভবন ও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িও রয়েছে। এই দুটি জায়গায় ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। কোনওভাবেই যাতে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও অন্যান্য বিধায়কদের মধ্যে এই ভাইরাস না ছড়ায় তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।