দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় নৌবাহিনীর হয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাজ করার পরে অবশেষে বাতিল করা হয়েছে যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিরাটকে। তারপরেই এই জাহাজকে কিনে নিয়ে তার মধ্যে নৌবাহিনীর মিউজিয়াম তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিল এক সংস্থা। কিন্তু সম্প্রতি এই জাহাজের কিছু ছবি সামনে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে জাহাজের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাই সেখানে মিউজিয়াম তৈরি করার সম্ভাবনা অনেকটাই কমেছে।
গুজরাতের আলংয়ে এই মুহূর্তে রয়েছে এই যুদ্ধজাহাজ। এনভিটেক নামের এক ফার্ম ১১০ কোটি টাকা দিয়ে শ্রীরাম শিপ ব্রেকার্সের কাছ থেকে এই যুদ্ধজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে জাহাজের যা হাল, তাতে সেই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে পারে তারা।
জানা গিয়েছে, জাহাজের যে অংশ থেকে যুদ্ধবিমান উড়ত ও নামত, সেই অংশের বেশ কিছুটা ভেঙে ফেলেছে শিপ ব্রেকাররা। তার ফলে জাহাজের উপরে একটা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাইরে থেকে দেখে হয়তো মনে হচ্ছে ঠিক আছে। কিন্তু কাছে গেলে সেটা বোঝা যাচ্ছে বলেই খবর।
কিছুটা অংশ ভেঙে ফেলার পরে প্রশ্ন উঠেছে, জাহাজটিকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা। কারণ যে অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে সেই অংশ নতুন করে জোড়া অনেক খরচ সাপেক্ষ। তাই কেউ সেই কাজ করতে যাবে না, এটাই স্বাভাবিক।
এখনও পর্যন্ত শিপ ব্রেকার সংস্থাকে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। এতে সমস্যা আরও বেড়েছে। কারণ এই সার্টিফিকেট না পেলে আইএনএস বিরাটকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাও করবে না শিপ ব্রেকার সংস্থা।
সোমবার শিবসেনা সাংসদ প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে চিঠি লিখে জানান, আইএনএস বিরাটের সংরক্ষণের জন্য সব রকমের সাহায্য করতে তৈরি মহারাষ্ট্র সরকার। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এখনও কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।
ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনভিটেক। কারণ, এটা পরিষ্কার যে ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকায় জাহাজটি বিক্রি করলেও শ্রীরাম শিপ ব্রেকার্সকে কোনও নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেবে না প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
১৯৮৬ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় আইএনএস বিরাটকে। তার আগে এইচএমএস হারমেস নামে রয়্যাল নেভিতে কাজ করেছে এই জাহাজ। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিল সে। ঐতিহাসিক এই যুদ্ধজাহাজের ভবিষ্যৎ নিয়েই এবার শুরু হয়েছে টানাপড়েন।