দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির থেকে গ্রেফতার হয় কানপুরের ত্রাস গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। শুক্রবার উজ্জয়িনী থেকে তাকে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে গাড়ি দুর্ঘটনা ও তারপর পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর সময় এনকাউন্টারে বিকাশের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর এই এনকাউন্টারের সময় সেখানে থাকা পথচারীদের বয়ান অনুযায়ী, গুলির শব্দ শোনার পরেই তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে পুলিশ।
সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে আশিস পাসোয়ান নামের এক ব্যক্তি জানান, “আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমরা যখন দেখতে যাই কী হচ্ছে, আমাদের পুলিশ সেখান থেকে চলে যেতে বলে। তাই আমরা বাড়ির পথ ধরি।”
এনকাউন্টারের পরে কোনও অ্যাম্বুলেন্স সেখানে এসেছে কিনা জিজ্ঞাসা করায় এক পথচারী জানান, “সবাই হাসপাতালে গিয়েছে।” আর এক পথচারী বলেন, “নিজেদের গাড়িতেই সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন উজ্জয়িনী থেকে বিকাশকে কানপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনটি গাড়ির কনভয়ের মধ্যে যে গাড়িতে বিকাশ ছিল সেটিই আজ সকালে কানপুরের কাছে হাইওয়ের উপর উল্টে যায়। আচমকা গাড়ি উল্টে যাওয়ায় আহত হন বিকাশ এবং এক পুলিশকর্মী। তবে চোট সামান্যই ছিল।
পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই আহত পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেয় বিকাশ। তারপর তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হলেও হার মানতে চায়নি বিকাশ দুবে। উল্টে পুলিশকে লক্ষ্য করেই গুলি চালায়। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে খানিকটা বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয় তাদের। তাতেই গুলি লাগে বিকাশের। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বিকাশ দুবেকে। চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ।
বিকাশের মৃত্যুর পরেও অবশ্য রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ইচ্ছে করেই এই এনকাউন্টার ঘটানো হয়েছে। পুরোটাই সাজানো। গতকালই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেছেন, এতদিন কোথায় লুকিয়ে ছিল বিকাশ। অভিযোগ করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। তাঁর দাবি, গাড়ি দুর্ঘটনা হয়নি। পুরো এনকাউন্টারের ঘটনা পরিকল্পিত। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসকদলের অনেক নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিকাশের। সেসব ধামাচাপা দিতেই এই এনকাউন্টার সাজানো হয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যম এও দাবি করেছে, গত ছ’দিনে তিনবার নাকি পুলিশে ফোন করে আত্মসমর্পন করতে চেয়েছিল বিকাশ দুবে। কিন্তু তা করতে দেওয়া হয়নি। আর তাই নাকি মহাকাল মন্দিরে অত সহজে নিজেকে ধরা দিয়েছে সে। তবে কি মহাকাল মন্দিরেও এনকাউন্টারের মনোভাব নিয়েই গিয়েছিল পুলিশ। গ্যাংস্টারের মৃত্যুর পর এখনও উঠছে অনেক প্রশ্ন, যার উত্তর অজানা।