দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের উস্কানিমূলক মন্তব্য কতটা দায়ী, তা নিয়ে আজ শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই সংঘর্ষে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারদের দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে এই শুনানি হবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বোবদের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে হবে এই মামলার শুনানি।
গত সপ্তাহে দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতে যে এই সংঘর্ষের ঘটনায় উস্কানিমূলক মন্তব্য করা নেতাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, প্রবেশ বর্মা, অনুরাগ ঠাকুর ও অভয় বর্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী কলিন গঞ্জালভেস জানিয়েছেন, “আমরা হাইকোর্টে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের জানানো হল, বিচারপতি বদল হচ্ছে। তাই ছ’সপ্তাহ পরে এই মামলার শুনানি হবে। কিন্তু এই মামলা খুবই জরুরি। প্রতিদিন ১০ জন মানুষ খুন হচ্ছে।”
এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা। তাতে প্রধান বিচারপতি বোবদে জানান, “আমরা শান্তি চাই। কিন্তু আমাদেরও ক্ষমতার একটা সীমা আছে। আমরা এই মামলা বুধবার শুনব। দেখি আমরা কী করতে পারি।” প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমরা এই ধরনের ঘটনা আটকাতে পারি না। কিন্তু আমরা ঘটনার পরে তা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে পারি। এটা আমাদের উপর একটা চাপ। এতটা বেশি চাপ নেওয়া আমাদের পক্ষে খুব কঠিন।”
আবেদনকারীরা যে পিটিশন দায়ের করেছেন, তাতে আর্জি জানানো হয়েছে, দিল্লির এই সংঘর্ষের ঘটনা যেন একটা বিশেষ তদন্তকারী দলকে দিয়ে তদন্ত করানো হয়। একটা প্যানেল তৈরি করে সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। এই প্যানেলে যেন সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারও থাকে। পুলিশের তরফে কী গাফিলতি হয়েছে, সেটাও যেন সবার সামনে নিয়ে আসা হয়। এই আবেদনগুলির ব্যাপারেই এদিন শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।
গত বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি এস মুরলীধরের ডিভিশন বেঞ্চ দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল, এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে যেন দেরি না করা হয়। এছাড়াও হাইকোর্টের মধ্যে বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের ভিডিও দেখানো হয়। বিচারপতি বলেন, আরও একটা ১৯৮৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া যায় না।
এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করে দেওয়া হয় বিচারপতি মুরলীধরকে। তারপরে এই মামলার শুনানির দায়িত্ব নেন বিচারপতি ডি এন পটেল ও সি হরিশঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ। তাঁদের কাছেই সময় দেওয়ার আর্জি জানায় দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা। সেই মামলারই শুনানি হবে আজ।