দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামমন্দির নির্মাণের জন্য ২১ হাজার টাকা অনুদান দিলেন তরুণ কংগ্রেস নেতা তথা গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি হার্দিক পটেল। ২৭ বছর বয়সী এই নেতা জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার মিলে এই অনুদান দিয়েছেন। সঙ্গে এও জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। তিনি যে একেবারেই র্যাডিকাল নন তাও বলেছেন হার্দিক।
তাৎপর্যপূর্ন মন্তব্য করে হার্দিক বলেছেন, মন্দির নির্মাণ হলেই দেশে রাম রাজ্য কায়েম হবে। তবে তাঁর মুখে রাম রাজ্য শব্দ নিয়ে অযথা যাতে বিতর্ক না তৈরি হয় তার জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি। তাঁর কথায়, “রাম রাজ্য মানে কৃষকদের সমৃদ্ধি, বেকারদের কর্মসংস্থান, মহিলাদের নিরাপত্তা, শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উৎকৃষ্ট শিক্ষা, গ্রামীণ ভারতের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি—দেশের নাগরিক হিসেবে এটাই আমার চাওয়া।”
এদিন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও রামমন্দির নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী টুইট করে লিখেছেন, আগামী কালের অনুষ্ঠান জাতীয় ঐক্যের উৎসব হয়ে উঠুক। তাঁর কথায়, “সরলতা, সাহস, সংযম, ত্যাগ এবং প্রতিজ্ঞা ছিল দীনবন্ধু রামের মূল কথা। ভগবান রাম সবার সঙ্গে রয়েছেন।” দীর্ঘদিন ধরে চলা রামমন্দির আন্দোলন এবং তার রক্তাক্ত অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেসনেত্রী বলেন, কালকের অনুষ্ঠান হয়ে উঠুক জাতীয় ঐক্যের।
বুধবারের ভূমিপূজনে কোনও কংগ্রেস নেতাই আমন্ত্রিত নন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ ১৭৫ জন অতিথি আগামী কালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন অযোধ্যায়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসে নেতৃত্ব হিন্দুত্বের ভাবাবেগে আঘাত লাগে তেমন কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। কারণ, অযোধ্যা নিয়ে সামগ্রিক ভাবে হিন্দুদের সেন্টিমেন্ট রয়েছে। বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে তা যাতে হিন্দুদের আবেগে আঘাত না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক সাবেক দল। যে কারণে হার্দিককে দেখা গেল অনুদান দিতে, কমলনাথ জানিয়েছেন তিনি কাল হনুমান চল্লিশা পাঠ করবেন।
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, কংগ্রেস দুটো জিনিস বোঝাতে চাইছে। এক, ধর্মনিরেপেক্ষতা মানে হিন্দুত্বের বিরোধিতা নয়। আর দুই, হিন্দুত্বের পেটেন্ট একা বিজেপি নিয়ে বসে নেই। রামমন্দির আন্দোলন সামগ্রিক ভাবে হিন্দুদের। তা কোনও দলের নয়।