দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ করোনার প্রভাব পড়েছে সব অনুষ্ঠানে। মহারাষ্ট্রের গণপতি উৎসব থেকে শুরু করে ইদ, সবকিছুই এবার করতে হয়েছে অনেক কম আড়ম্বরে। মানতে হয়েছে একাধিক নিয়ম। সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে ঘিরেও একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যেই এবার গুজরাত সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, নবরাত্রি উপলক্ষ্যে হওয়া গরবা এবছর বন্ধ থাকবে। এমনকি নবরাত্রি উৎসবেও অনেক কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গুজরাত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে চলতি বছর গুজরাতে কোনও গরবা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। ছোট-মাঝারি-বড় সব ধরনের অনুষ্ঠানের জন্যই এই নির্দেশ। কারণ গরবার অনুষ্ঠানে অনেক মানুষ অংশ নেন। তাই সেখানে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিজয় রূপাণি সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, নবরাত্রি উৎসবে পুজো করা যাবে। কিন্তু সেখানেও অনেক কাটছাঁট করা হয়েছে। যেমন প্রতিমা কেউ স্পর্শ করতে পারবেন না। প্রসাদ বিতরণ করা যাবে না। একসঙ্গে কোথাও বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। দর্শনার্থীদের মাস্ক পরে আসতে হবে। এছাড়া পুজো মণ্ডপ যাতে স্যানিটাইজ করা থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে উদ্যোক্তাদের। শুধু নবরাত্রি নয়, দুর্গাপুজো, দশেরাতেও এইসব নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতি বছর এই নবরাত্রি ও দশেরা উপলক্ষ্য অনেক রকমের আয়োজন করা হয় গোটা গুজরাত জুড়ে। এবছর তাতেও কাটছাঁট হয়েছে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়। বলা হয়েছে, কন্টেইনমেন্ট জোনগুলি বাদ দিয়ে এই সব অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। কিন্তু আকারে তা ছোট হবে। শুধু তাই নয়, মেনে চলতে হবে কোভিড সংক্রান্ত নিয়ম। যেমন এইসব অনুষ্ঠানে যাতে ২০০ জনের বেশি দর্শক না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনুষ্ঠান এক ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে হবে। যেখানে দর্শকরা বসবেন, সেখানেও ছয় ফুটের সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। যদি কোথাও দাঁড়ানোর ব্যবস্থা থাকে সেখানেও দাঁড়ানোর জায়গা গোল মার্ক করে দিতে হবে। তার মধ্যেই দাঁড়াতে হবে দর্শকদের।
সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এইসব অনুষ্ঠানে যেসব দর্শক আসবেন তাঁদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করার পরেই অনুষ্ঠানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে সবাইকে। ভিতরে বসার জায়গা থেকে শুরু করে মঞ্চ, সব যেন ভাল করে স্যানিটাইজড করা থাকে। তবে ১০ বছরের ছোট ও ৬৫ বছরের বেশি কাউকে অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া চলবে না। অনুষ্ঠান চলাকালীন থুতু ফেলা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে বলে জানানো হয়েছে।