দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতে দলিত বর, ঘোড়ায় চেপে বিয়ে করতে গেছিলেন। এই অপরাধেই সামাজিক বয়কটের শিকার হল তাঁর পরিবার। বরের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে একজন সরপঞ্চ, আরেকজন সহকারী সরপঞ্চ!
গুজরাটের মেহেসানার একটি গ্রামের এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ৫০ বছরের মনুভাই পারমার। তাঁর বড় ছেলে মেহুলের বয়স ২৪। ৭ই মে সে বিয়ে করতে গেছিল ঘোড়ায় চড়ে। ঠিক তার পরের দিনই গ্রামের সরপঞ্চ বিনু ঠাকোর এবং সহকারী সরপঞ্চ বলদেব ঠাকোর গ্রামবাসীদের একটি মন্দিরের কাছে জড়ো হতে বলেন। সরপঞ্চরা বলেন উচ্চবর্ণের তিনজন তাঁদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন এই বিয়ে নিয়ে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, দলিত হয়েও ঘোড়ায় চড়ায় দলিতদের শাস্তি দিতেই হবে। এর বিহিত করা না হলে তাঁরা মেনে নেবেন না। দলিতদের শিক্ষা দিতেই হবে। কী সেই শিক্ষা! গ্রামবাসীদের পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়, গ্রামের কোনও দলিত পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা যাবে না, তাঁদের কোনও যানবাহনে চড়তে দেওয়া যাবে না, তাঁদের কোনও খাবার এবং কাজ দেওয়া চলবে না। এই নিয়মের অন্যথা হলে, ৫০০০ টাকা জরিমানা করা হবে এবং তাঁকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হবে।
মনুভাই পারমার ৯ তারিখেই পুলিশের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। সেদিন সকালে প্রথম এক দলিত মহিলা একটি দোকানে ময়দা কিনতে যাওয়ায় তাঁকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আরও এক মহিলা মুদিখানায় প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়েও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০১৯-এও এই সমস্যায় সকলেই হতবাক। আর যাঁর ঘোড়ায় চড়া ঘিরে এত ঘটনা, সেই মেহুল পিটিআইকে বলেছেন, এমনভাবে একঘরে করা হয়েছে তাঁদের যে, দুধ পর্যন্ত কিনতে পারেননি তাঁরা, ফলে বিয়ের পরে সকালে উঠে বাড়িতে চা পর্যন্ত খেতে পারেননি! বিয়ের দিনই তাঁদের কাছে ঘোড়ায় চড়া নিয়ে আপত্তি এসেছিল, কিন্তু তাঁরা পাত্তা দেননি বিষয়টায়। এমনকি সেদিনই তাঁরা পুলিশের সাহায্যও চেয়েছিলেন। আর পরের দিন থেকেই এই সামাজিক বয়কটের পরে তাঁর বাবা বাধ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ জানান পুলিশে।
ঘটনায় যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাঁরা গ্রামের সরপঞ্চ বিনু ঠাকোর, সহকারী সরপঞ্চ বলদেব ঠাকোর, ভোপা ঠাকোর, মনু বারোট, গভা ঠাকোর। ঘটনা জানাজানি হতেই পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা , সোশ্যাল অ্যাকটিভিটিস্টরা গ্রামে জড়ো হয়েছেন। মেহেসানার এসপি নীলেশ জাজোড়িয়া বলছেন, যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তাঁদের খুব তাড়াতাড়িই গ্রেফতার করা হবে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর এই খবরে আবারও ভাবাচ্ছে ২০১৯-এও আম্বেদকারের সেই লড়াই এখনও কতটা প্রাসঙ্গিক !