দ্য ওয়াল ব্যুরো: মামারবাড়ি গিয়ে বাবাকে দেখার আবদার করেছিল ২ বছরের ছোট্ট ছেলে। তার জন্যই বেধড়ক মার জুটেছে ওই একরত্তির কপালে। সেই সঙ্গে মোমবাতি দিয়ে বাচ্চাটিকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার দিদার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনা ঘটেছে বেঙ্গালুরুর সুদ্দাগুনতে পাল্যা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, বাচ্চাটির সারা শরীরে এবং মুখে পোড়ার ক্ষত রয়েছে। আপাতত বেঙ্গালুরুর ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই শিশুটি।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিশুর মা একজন দিনমজুর। পঞ্চম বার সন্তান সম্ভবা ছিলেন তিনি। তাই গিয়েছিলেন বাপের বাড়িতে। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর দু'বছরের সন্তানকে। বাকি ছেলেমেয়েদের রেখে গিয়েছিলেন স্বামী ইরফাদের কাছে।
গত শুক্রবার দিদার কাছে বাচ্চাটি বারবার বায়না করেছিল বাবার কাছে যাওয়ার, বাবাকে দেখার। কান্নাকাটি করে বায়না করেছিল বাবার কাছে যাওয়ার। এইসব শুনেই নাতিকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করেন তার দিদা। এমনকি মোমবাতি দিয়ে পুড়িয়ে দেন বাচ্চাটির মুখ, হাত-পা। আশেপাশের কেউ যাতে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে না পায় সে জন্য বেঁধে দেওয়া শিশুর মুখ। নির্মম অত্যাচার সইতে না পেরে খানিক্ষণ পর জ্ঞান হারায় বাচ্চাটি।
এরপরেই নিজের স্বামীকে ফোন করে সবটা জানান মহিলা। শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে কোনও মতে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিশুটি চোখেও মারাত্মক ভাবে আঘাত পেয়েছে। বয়স মাত্র ২ বছর, চামড়া নরম থাকায় পোড়ার ক্ষত অনেকটাই গভীর। তার চিকিৎসা চলছে। তবে আশঙ্কা এখনও কাটেনি।
সন্তানের প্রতি এ হেন অত্যাচার যখন চলছিল তখন তার মা কোথায় ছিলেন সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। শাশুড়ি এবং স্ত্রী দু'জনের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বাচ্চাটির বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুর দিদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও রুজু হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির স্ত্রী ২০ দিন আগে পঞ্চম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাই তাঁকে এখনও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। যদিও বাচ্চাটিকে রাখার দায়িত্ব এখন তার বাবাকেই দেওয়া হয়েছে।