দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে ৬ বছরের এক দলিত মেয়েকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির বাবা বিহারের এক পরিয়ায়ী শ্রমিক। এই ঘটনা সামনে আসার পরে গান্ধী পরিবার অর্থাৎ সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে একহাত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর।
এই ঘটনার নিন্দা করেছেন জাভরেকর। এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। কংগ্রেসের শাসিত রাজ্যে এই ঘটনার জন্য গান্ধী পরিবারকে নিশানায় নিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘুরে না বেরিয়ে পাঞ্জাবে গিয়ে এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী।
সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জাভরেকর বলেন, “হোশিয়ারপুরের তান্ডা জেলায় বিহারের ছ’বছর বয়সী এক দলিত মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা খুবই অবাক করেছে। রাজনৈতিক ট্যুরে না গিয়ে রাহুল গান্ধীর উচিত তান্ডা ও রাজস্থানে যাওয়া এবং মেয়েদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অপরাধের জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী কিংবা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী কেউ তান্ডার নির্যাতিতার বাড়ি গেলেন না। কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে মেয়েদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের ঘটনায় তাঁরা কান দেন না, কিন্তু হাথরাস ও অন্য জায়গায় গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন তাঁরা।”
এই ঘটনায় বিহারের প্রধান বিরোধী দল আরজেডি ও তেজস্বী যাদবকেও নিশানা করেছেন প্রকাশ জাভরেকর। কারণ বিহারে আরজেডির সঙ্গে জোট বেঁধেছে কংগ্রেস। সেই কথাকে উল্লেখ করে জাভরেকর বলেন, “তেজস্বী যাদব এমন এক দলের নেতাদের সঙ্গে স্টেজ শেয়ার করছেন, যে দলের নেতারা তাদের শাসিত রাজ্যে হওয়া বিহারের এক দলিত কিশোরীর উপর নির্যাতন নিয়ে কিছু বলছেন না। এতে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে।”
কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীর গণধর্ষণ ও তারপরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জাতীয় রাজনীতি। নির্যাতিতার দেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে রাতের অন্ধকারে তা পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সমালোচনা শুরু হয়। হাথরাসে যাওয়ার সময় আটকানো হয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী ও সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে। যদিও পরের দিন তাঁরা গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে কংগ্রেস।
সেই সময়ও বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল রাজস্থানে বা কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে কোনও অভিযোগ করা হচ্ছে না কংগ্রেসের তরফে। শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশ বলেই এত শোরগোল করছে তারা। ফের একবার সেই অভিযোগ আনা হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তরফে।