দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁর একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করছে না বলেই জানা গিয়েছে। এই মুহূর্তে অচৈতন্য তিনি। শ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছে তাঁর। এমনটাই জানিয়েছেন অসমের স্বাস্ত্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোভিড পরবর্তী উপসর্গ নিয়ে গত ২ নভেম্বর গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। তারপর থেকে নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে ৮৬ বছর বয়সী এই কংগ্রেস নেতাকে। কিন্তু এতদিনেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি তো হয়ইনি, বরং তা আরও খারাপ হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তারপরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আজ বিকেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে তাঁর। তাই চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ইনটিউবেশন ভেন্টিলেশন শুরু করেছেন। তিনি সম্পূর্ণভাবে অচেতন রয়েছেন। তাঁর একাধিক অঙ্গ বিকল হয়েছে।”
হিমন্ত আরও বলেন, “তাঁর অঙ্গগুলিকে ফের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। অন্য পদ্ধতিতেও চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা ডায়ালিসিস করানোর চেষ্টা করছেন। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ। আমরা সব রকমের চেষ্টা করছি।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমসের চিকিৎসকদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চলেছেন গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। সব রকমের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই অবস্থায় অন্য কোথাও তাঁকে স্থানান্তরিত করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। পরিবারকে প্রতি মুহূর্তে খবর জানানো হচ্ছে। তাঁদের অনুমতি নিয়েই সব কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
গত ২৫ অগস্ট করোনা আক্রান্ত হন অসমের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। পরের দিনই গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে কোভিড ও কোভিড পরবর্তী উপসর্গের চিকিৎসা হওয়ার পরে গত ২৫ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। দু’মাস পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। তাই ২ নভেম্বর তাঁকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে সেখানেই রয়েছেন তিনি।