দ্য ওয়াল ব্যুরো: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যেই এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষেদ ( এবিভিপি ) নেতা রাঘবেন্দ্র মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বুধবার ওই ছাত্রীকে নিজের হোস্টেল রুমে ডেকে পাঠান রাঘবেন্দ্র। ছাত্রী যাওয়ার পরেই তাঁর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন তিনি। কোনওরকমে রাঘবেন্দ্রর হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন ওই ছাত্রী। হোস্টেলের ঘরে থাকা অ্যালার্মও বাজিয়ে দেন তিনি। অ্যালার্মের আওয়াজ শুনেই হোস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীরা সেখানে ছুটে আসেন।
নিরাপত্তারক্ষীদের দেখেই ছুটে পালাতে যান রাঘবেন্দ্র। কিন্তু পালানোর আগেই তাঁকে ধরে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। রাঘবেন্দ্রকে নিয়ে যাওয়া হয় বসন্তকুঞ্জ থানায়। সেখানে পুলিশ গ্রেফতার করে রাঘবেন্দ্রকে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন ঐ ছাত্রী। শ্লীলতাহানি ও যৌন নির্যাতনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রাক্তন এবিভিপি নেতার বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর, রাঘবেন্দ্র আগে এবিভিপির জওয়হরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটের নেতা ছিলেন। কিন্তু এরপরে এবিভিপি ছেড়ে দেন তিনি। শেষবার নির্বাচনে নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন রাঘবেন্দ্র। যদিও সেই নির্বাচনে হেরে যান রাঘবেন্দ্র।
জেএনইউয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন, এবিভিপির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবসময় গেরুয়া পোশাক পরেই ঘুরে বেড়াতেন রাঘবেন্দ্র। ক্যাম্পাসের মধ্যে অনেকে তো তাঁকে এবিভিপি নেতা হিসেবেই মনে করতেন।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। এই নিয়ে মাঝেমধ্যেই এবিভিপির সঙ্গে বিরোধ হচ্ছে তাদের। কয়েক দিন আগে ছাত্রীদের হস্টেলে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে কিছু দুষ্কৃতী। আহত হয়েছেন ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ। এই নিয়ে এবিভিপির দিকে আঙুল তুলেছিল এসএফআই। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর। তারমধ্যেই এবার যৌন নির্যাতনের ঘটনায় প্রাক্তন এবিভিপি নেতার নাম জড়ানোর ফলে ফের উত্তেজনা ছড়াল জেএনইউয়ে।