দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে গোয়েন্দা অফিসার খুনে অভিযুক্ত আপ নেতা তাহির হুসেনের বাড়িতে পৌঁছল ফরেন্সিক টিম। উত্তর-পূর্ব দিল্লির চাঁদবাগে রয়েছে এই আপ কাউন্সিলরের বাড়ি। নমুনা সংগ্রহের জন্য সেখানেই পৌঁছে গিয়েছে ফরেন্সিক টিম।
গত বুধবার জাফরাবাদ এলাকায় ড্রেন থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক যুবকের দেহ। পরে জানা যায়, ওই যুবক পেশায় একজন গোয়েন্দা অফিসার। নাম অঙ্কিত শর্মা। বছর ৪৫-এর এই আইবি অফিসারকে খুনের দায়ে আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন অঙ্কিতের বাবা রবীন্দ্র শর্মা। এরপর অবশ্য একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন তাহির। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আপ নেতার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। এর পরেই আপ থেকে সাসপেন্ড করা হয় তাহির হুসেনকে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র টুইট করেছিলেন একটি ভিডিও। ওই ভিডিও শেয়ার করে তিনি দাবি করেছিলেন তাহির হুসেনের বাড়ির ছাদ থেকে ক্রমাগত পেট্রল বোমা এবং পাথর ছোঁড়া হচ্ছিল। গতকাল তাহির হুসেনের বাড়িতে সাংবাদিকরাও পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন কপিল মিশ্র। সেখান থেকে পেট্রল বোমা, অ্যাসিডের প্যাকেট, পাথর ও আরও অনেক কিছু উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা কপিল।
গত রবিবার থেকে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লি। সিএএ বিরোধী এবং সমর্থকদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজধানী শহরের বিস্তীর্ণ অংশ। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝে পড়ে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯ জন। আহতের সংখ্যা ৩০০-র বেশি। খাজুরি খাস এলাকায় পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন পরেই ওই জওয়ান এবং তাঁর বোনের বিয়ে ছিল। বাড়িতে রাখা ছিল বিয়ের গয়না এবং নগদ টাকা। তবে ছাই ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। দীর্ঘদিন ধরে জমানো সব সঞ্চয় নিমেষে ঝলসে গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসা রুখতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। সিট-এর দুটি দল গঠন করা হয়েছে। একটি টিমের দায়িত্বে রয়েছে ডিসিপি জয় তিরকে। অন্য দলটির দায়িত্বে থাকছে ডিসিপি রাজেশ দেও। প্রতি টিমে থাকবেন চারজন এসিপি র্যাঙ্কের পুলিশ। এছাড়াও দিল্লি পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার (ক্রাইম) বিকে সিং সিটের এই দুই টিমের সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করবেন। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে গত কয়েকদিনের অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪৮টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। বাড়ছে অশান্তির আঁচ। তাই সিটের এই দুটো টিমকে ইতিমধ্যেই সংঘর্ষের এলাকায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টিমের সঙ্গে থাকবেন তিনজন ইন্সপেক্টর, চারজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং তিনজন কনস্টেবল।