দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে উত্তর-পূর্ব দিল্লি। টানা পাঁচদিন ধরে চলা হিংসার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রাজধানী শহরের বিস্তীর্ণ অংশ। সিএএ বিরোধী এবং সমর্থকদের সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল গত কয়েকদিনে। তবে অবশেষে অশান্ত দিল্লি কিছুটা হলেও শান্ত হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকেই দোকানপাট খুলেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকায়। কাজে যাওয়া শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে যেকোনও জমায়েত বা লোকজনের ভিড়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে উত্তর দিল্লি পুরসভা সংঘর্ষের এলাকাগুলোর সাফাই অভিযানেও নেমেছে ইতিমধ্যেই। এলাকায় যান চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক।
গত রবিবার থেকে অশান্তি শুরু হয়েছিল রাজধানী শহরে। সময় যত এগিয়েছে ততই বেড়েছে উত্তাপ। হিংসার বলি হয়েছে ৪২ জন। আহত ৩০০-রও বেশি মানুষ। ইতিমধ্যেই ১২৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছে ৬০০-র বেশি। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় এফআইআরের সংখ্যা বেড়েছে দু’গুণ।
তবে শনিবার সকাল থেকে দোকানপাট খুললেও কিংবা রাস্তাঘাটে যানচলাচল সঠিক ভাবে হলেও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা। চারিদিকে এখনও ভাসছে পোড়া গন্ধ। পুলিশ এবং আধা সেনার সঙ্গে এখনও উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে র্যাফ। অশান্তি রুখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে তারা। গাড়ি-বাড়ি-দোকানপাটের ভাঙা অংশ সরিয়ে নিয়ে যেতে শিব বিহার-সহ একাধিক এলাকায় আনা হয়েছে বড় বড় ক্রেন এবং বুলডোজার। বেশ কিছু এলাকা থেকে আতঙ্কে ঘরছাড়া হয়েছেন স্থানীয়রা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা নিজের বাড়িতে ফিরবেন বলে মত প্রশাসনের।
ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে রাজধানী শহরের পরিস্থিত। এই অবস্থায় যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছাড়ায় সেদিকে সাধারণ মানুষকেও নজর রাখার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। দিল্লি পুলিশের তরফে দেওয়া হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও। গুজবে কান দিয়ে অযথা যাতে জনতা আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে পড়ে এবং অকারণ গুজব না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখার আবেদন জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।