দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার নতুন প্রজাতির সংক্রমণে ফের ধীরে ধীরে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে ব্রিটেনে। সেখানে হু হু করে বাড়ছে এই সংক্রমণ। ইতিমধ্যেই আরও কয়েকটি দেশে এই নতুন প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে ভারত নেই, এমনটাই জানাল কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত ভারতে এই সংক্রমণ দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছে সরকার।
নীতি আয়োগের সদস্য ডক্টর ভি কে পাল জানিয়েছেন, “ব্রিটেনে দেখতে পাওয়া করোনাভাইরাসের নতুন প্রজাতি এখনও ভারতে কারও মধ্যে দেখা যায়নি। এবং এখনও পর্যন্ত ভারতে ট্রায়াল চলা কোভিড ভ্যাকসিন অথবা অন্যান্য দেশের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই।”
ব্রিটেনে এই নতুন প্রজাতির সংক্রমণ শুরু হতেই ২৫ টির বেশি দেশ ব্রিটেনের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ভারতও। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপাতত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার আগে সম্প্রতি এখনও পর্যন্ত ব্রিটেন থেকে ফেরা যাত্রীদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যবধি লাগু করেছে ভারত সরকার।
কেন্দ্রের জারি করা এই নতুন স্বাস্থ্যবিধিতে বলা হয়েছে, যারা ব্রিটেন থেকে আসছে, তাদের আরটি-পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক। কারও পজিটিভ রিপোর্ট এলে তাকে আইসোলেশনে রাখা হবে। সেই সঙ্গে ওই একই রো এবং তার সামনে ও পিছনের রো, অর্থাৎ মোট তিনটি রো’তে বসা সব যাত্রীদের অবস্থান চিহ্নিত করে তাদেরও আইসোলেশনে রাখা হবে বলেই জানা গিয়েছে।
গত সোমবার দুপুরে ডক্টর হর্ষ বর্ধন বলেন, “সরকার সম্পূর্ণভাবে সতর্ক রয়েছে। আপনারা সবাই জানেন, গত এক বছর ধরে আমরা মানুষের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। কী করতে হবে সেই ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন তাহলে আমি বলব, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।”
ইতিমধ্যেই ব্রিটেন সরকারের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই নতুন প্রজাতির মাধ্যমে সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য ও দক্ষিণ-পূর্বে দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সরকার জানাচ্ছে এই নতুন প্রজাতি আরও বেশি ক্ষতিকারক।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই বিষয়ে জানিয়েছি। যদিও আমাদের কাছে এখনও এমন কোনও তথ্য নেই যাতে আমরা বলতে পারি এই নতুন প্রজাতির সংক্রমণে মৃত্যুর হারও বেশি হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসা পরিষেবার উপর প্রভাব পড়েছে। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
এই অবস্থায় ব্রিটেনে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে একাধিক দেশ। ইউরোপের দেশ ছাড়াও সেই তালিকায় অন্যান্য মহাদেশেরও অনেক দেশ রয়েছে। ব্রিটেন থেকে বিমান আসা ও যাওয়া দুটোই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। এছাড়া ইজরায়েল, তুরস্ক ও সৌদি আরবও সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিবিসি সূত্রে খবর, এই নতুন প্রজাতি দেখা গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসেও।
ব্রিটেনে সংক্রমণ ধরা পড়ার পরেই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিল ভারত। তারপরেই বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এই নতুন প্রজাতির খোঁজ এখনও পর্যন্ত ভারতে পাওয়া যায়নি বলেই জানালেন বিজ্ঞানীরা।