দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাসের উপর দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। কেন্দ্রের পাশ করা কৃষি আইন প্রত্যাহার করার দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এই আন্দোলনে বিরোধী দলগুলিকে পাশে পেয়েছেন তাঁরা। এই অবস্থায় ফের একবার কংগ্রেসকে পাশে পেলেন তাঁরা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, কৃষকরা নিজেদের দাবি থেকে পিছু হটবেন না। সরকারকেই আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
গত কয়েক দিন ধরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লি সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়া, কংক্রিটের প্রাচীর তুলে কৃষকদের সামনে ব্যারিকেড গড়ে তোলা হচ্ছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন রাহুল। সংবাদমাধ্যমের সামনে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বলেন, “আমি যতদূর কৃষকদের চিনি, ওঁরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। ওঁরা নিজেদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। দিনের শেষে সরকারকেই সরে দাঁড়াতে হবে। সেটা যদি আজকেই হয় তাহলে আরও ভাল। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য মোটেই ভাল নয়।”
আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ভারতের ছবি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে বলেই অভিযোগ করেছেন রাহুল। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, ভারতের ছবি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। শুধু কৃষকদের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা নয়, যেভাবে আমাদের নাগরিক, আমাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা খুবই খারাপ। এই সরকার ভারতের ছবি দুনিয়ার সামনে খারাপ করছে।”
সরকারকে আইন প্রত্যাহার করতে হবে বলেই দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, “কোথায় সমস্যা হচ্ছে? একটাই ইস্যু, কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে।”
গত কয়েক দিন ধরে কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খোলা শুরু করেছেন রাহুল। প্রায় ২৫০ টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদ করে সোমবার মুখ খুলেছেন রাহুল। তিনি টুইট করে বলেন, “সেতু বানান, কিন্তু দেওয়াল বানাবেন না।”
কেন্দ্রের প্রনয়ন করা তিনটি কৃষি আইন ঘিরে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল দেশ। দিল্লি সীমান্তে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। কিন্তু গত ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্র্যাক্টর র্যালি উপলক্ষ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিল্লির রাজপথ। বেশ কিছু জায়গায় সংঘর্ষ হয়। এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ৩০০-র বেশি পুলিশ আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কৃষক নেতাকে নোটিস ধরিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যদিও এই সংঘর্ষের দায় সমাজ বিরোধীদের উপরেই চাপিয়েছেন কৃষক নেতারা।