দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল অন্তত ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। কালো ধোঁয়া সরে যাওয়ার পর দেখা গিয়েছিল অনেকটা এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসলীলার চিহ্ন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯। দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ফিদায়েঁ জঙ্গি হামলার বর্ষপুর্তি হয়েছে শুক্রবার। ওইদিন অসমের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে তালপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে উন্মোচিত হল শহিদ সেনা জওয়ান মনেশ্বর বসুমাতারির বিশাল মূর্তি। সরকার বা কোনও রাজনৈতিক দল নয়। গ্রামের লোকজনই ১০ লক্ষ টাকা তুলে বানিয়ে ফেলেছে এই মূর্তি।
গতকাল সিআরপিএফের গুয়াহাটি ডিভিশনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে। কিন্তু কোনও সরকারি কর্তা বা সেনা আধিকারিকরা ওই মূর্তি উন্মোচন করেননি। শহিদ সেনা জওয়ানের বছর ১৬-র ছেলেই উন্মোচন করে বাবার মূর্তি।
মূর্তি উন্মোচন করেই কান্নায় ভেঙে পড়ে মনেশ্বরের ছেলে ধনঞ্জয়। উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সে বলে, “দু’দিন বাদেই বাবার ফেরার কথা ছিল বাড়িতে। বাবা এসেছিল কফিনে শুয়ে।” সে আরও বলে, “আমাদের পরিবারের কাছে গ্রামের লোকজন অনুমতি চেয়েছিল বাবার মূর্তি তৈরি করার। আমরা বলেছিলাম, এভাবেই বাবা বেঁচে থাকুক। অনেক বছর পরেও যেন এই তালপুর জানতে পারে আমার বাবা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন।”
প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার লড়াইটা ছিল কঠিন। অনেক বাধা পেরিয়েই মনেশ্বর সুযোগ পেয়েছিলেন সিআরপিএফে। ২০১৫ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীরে কর্তব্যরত ছিলেন তিনি। তার আগে মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তীসগড়ের বাস্তারেও সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করেছিলেন নিহত জওয়ান।
সিআরপিএফ কর্তারা জানিয়েছেন, পুলওয়ামা হামলায় নিহত সমস্ত জওয়ানদের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। নিহত জওয়ানের এক আত্মীয় বলেন, “এই মূর্তি তৈরির জন্য গ্রামের বহু মানুষ তাঁদের নাওয়াখাওয়া ভুলেছিলেন। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া গ্রামে এক বছরে ১০ লক্ষ টাকা তুলে মূর্তি বানানো মামুলি ব্যাপার নয়।”