দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির শাহিনবাগে লাগাতার আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনের পুরভাগে রয়েছেন সংখ্যালঘু মহিলারা। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিনেত্রী নন্দিতা দাস বললেন, “সরকার যা শুরু করেছে তাতে সারা দেশে আরও শাহিনবাগ তৈরি হবে।”
বৃহস্পতিবার রাজস্থানের জয়পুর সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন নন্দিতা। সেখানেই একটি সেমিনারে অভিনেত্রী বলেন, “যাঁরা চার প্রজন্ম ধরে এদেশে আছেন, সরকার তাঁদের থেকেও প্রমাণ দেখতে চাইছে। এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে সকলের উচিত একসঙ্গে আওয়াজ তোলা।”
এমনিতে সারা দেশে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তার বেশির ভাগই অরাজনৈতিক। পিছনে মদত থাকলেও, সামনাসামনি কোনও দলীয় রাজনীতি বা ঝান্ডা নেই। শুধু শাহিনবাগ নয়। কলকাতার পার্কসার্কাস, মোমিনপুর, এসএন ব্যানার্জি রোডের ছবিটাও এক। এদিন নন্দিতা বলেন, “যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে তা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে রাস্তায় নেমেছে।” তাঁর কথায়, “ছাত্র-যুব-সাধারণ মানুষের এই আন্দোলন সারা দেশেই আশার সঞ্চার করেছে। সারা দেশেই তৈরি হবে অসংখ্যা শাহিনবাগ।”
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনীতি ও বেকারত্ব নিয়েও তীব্র তোপ দাগেন এই অভিনেত্রী। জয়পুরের সেমিনারে নন্দিতা বলেন, “দেশের বেকারত্ব গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছেছে। অর্থনীতির হালও খারাপ। সংবাদমাধ্যমের উচিত এগুলিকে আরও বেশি করে তুলে ধরা।” কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভেদের রাজনীতি চালাচ্ছে বিজেপি। এদিন সেই সুরেই সুর মেলান নন্দিতা। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর এমন ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদের রাজনীতি এই প্রথম। এই পরিস্থিতি কখনও তৈরি হয়নি।”
নাসিরউদ্দিন শাহ, প্রকাশ রাজ, স্বরা ভাষ্করের মতো একাধিক অভিনেতা সিএএ-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিজেদের মত জানিয়েছেন। তা নিয়ে নন্দিতা যে গর্বিত তাও জানাতে ভোলেননি। ওই সেমিনারে তিনি বলেন, “আমাদের সংবিধান জাত, ধর্ম, লিঙ্গ নির্বিশেষে সমানাধিকারের কথা বলেছে। আজ সেটাই আক্রান্ত। সংবিধান বাঁচানোর লড়াই লড়ছে সারা দেশ।”
নন্দিতার বিজেপি বিরোধিতা এই প্রথম নয়। বছর পাঁচেক আগে বিহারের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে সরিয়ে দেওয়ার পরও সরব হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এবার সরব হলেন সিএএ নিয়েও।