প্রতিটা রডের আঘাত ফিরিয়ে দেব বিতর্কে, শব্দে: ক্যাম্পাসে ফিরে ঐশী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাথায় ১৬টা সেলাই। ব্যান্ডেজ বাঁধা হাতে। দুপুরের পর ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। তারপরই জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন সোমবারের হামলায় গুরুতর জখম ছাত্র
শেষ আপডেট: 6 January 2020 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাথায় ১৬টা সেলাই। ব্যান্ডেজ বাঁধা হাতে। দুপুরের পর ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। তারপরই জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন সোমবারের হামলায় গুরুতর জখম ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ।
এদিন ঐশী বলেন, “যে লোহার রডের বাড়ি আমাদের শরীরে পড়েছে তার জবাব দেওয়া হবে বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমেই। জেএনইউয়ের সংস্কৃতি কোনও হিংসাকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরাও গণতান্ত্রিক পথেই মোকাবিলা করব হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের।”
দুর্গাপুরের মেয়ে ঐশী আরও বলেন, “খুন করার উদ্দেশ্য নিয়েই হামলা চালানো হয়েছিল গতকাল।” তাঁর অভিযোগ, “গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্ঘ পরিবারের অনুগত কিছু অধ্যাপক আমাদের আন্দোলন ভাঙার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কাল যে ঘটনা ঘটেছে তাতে স্পষ্ট যে, মুখোশ পরা গুন্ডাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালিয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের একটা বোঝাপড়া ছিল। না হলে ওই ভাবে সংগঠিত হামলা চালানো যায় না।”
ছাত্রদের অভিযোগ, টানা তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চলেছে ক্যাম্পাসে। যে সবরমতী হোস্টেলে এই হামলা চালানো হয়েছে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দিকে। জানা গিয়েছে, হামলার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের সমস্ত আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর চলে নির্বিচারে ভাঙচুর ও তাণ্ডব।
রবিবার রাতে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৩৪ জনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন অধ্যাপিকা সুচরিতা সেন-সহ আরও বেশ কয়েকজন অধ্যাপক-অধ্যাপিকা। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, হামলাকারীদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে সবরমতী হোস্টেলের দোতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন দুই পড়ুয়া। ওই দু’জনেরই আঘাত গুরুতর। দুই ছাত্রীরই পা ভেঙে গিয়েছে বলে খবর।
জেএনইউয়ের হোস্টেল ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন চলছে। লাগাতার আন্দোলনে পড়াশোনা কার্যত শিকেয় উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বৃদ্ধির হার কমানোর পরও আন্দোলন ওঠেনি। ছাত্রদের দাবি বর্ধিত ফি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ঐশী এদিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তাঁর আর এক মুহূর্ত অধিকার নেই ওই পদে থাকার। তাঁর ইস্তফার দাবিতে আরও জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”