দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত লোকসভা ভোটে তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলতে গেলে হুবহু মিলে গিয়েছিল। সে বারও মোদী ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল টুডেজ চাণক্য।
পাঁচ বছর পর এ বার চাণক্য বলছে, উনিশের ভোটের সু-নমো হতে পারে। একাই তিনশ পেরিয়ে যেতে পারেন নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদী। তাঁদের সমীক্ষার মতে বিজেপি পেতে পারে ৩০০ টি আসন। এর থেকে ১৪ টি আসন কমবেশি হতে পারে।
সেই সঙ্গে তাঁদের এও পুর্বানুমান,-কংগ্রেসের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষত মেরামত হয়নি। গত ভোটে সাকুল্যে ৪৪ টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। এ বার তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে মাত্র ৫৫। এর থেকে কমবেশি ৯ টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ফলাফল থাকবে বলে তাঁদের অনুমান। একই সঙ্গে তাদের এও ইঙ্গিত, আঞ্চলিক দলগুলির অবস্থা ক্রমশ কঠিন হচ্ছে ভারতবর্ষে।
বিজেপি ৩০০ +/- (১৪)
এনডিএ ৩৫০ +/- (১৪)
কংগ্রেস ৫৫ +/-(৯)
ইউপিএ ৯৫ +/-(৯)
তৃণমূল ২৩ +/-(৮)
চোদ্দ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ২৮৩ টি আসন। সেই সাফল্যের মূল রসায়ন ছিল হিন্দিবলয়ে মোদী ঝড়। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে ৮০ টি আসনের মধ্যে ৭১টিই জিতে নিয়েছিল বিজেপি। রাজস্থানে ২৫টি আসনের মধ্যে ২৫টি, মধ্যপ্রদেশে ২৯ টি আসনের মধ্যে ২৭টি, গুজরাতে ২৬ টি আসনের মধ্যে ২৬টিই আসন পেয়েছিল বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা ছিল, হিন্দিবলয়ে বিজেপি-র ভোট আর বাড়বে না। বাড়ার জায়গাও নেই। বরং উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ-মায়াবতীর জোটের কারণে সেখানে ভরাডুবি হতে পারে বিজেপি-র। তা ছাড়া মাস ছয়েক আগে হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্য রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ে বিধানসভা ভোটে বিজেপি পরাস্ত হয়েছে। কংগ্রেস সেখানে সরকার গড়েছে। ফলে সেখানেও উল্লেখযোগ্য হারে আসন কমতে পারে বিজেপি-র।

কিন্তু চাণক্য-র সমীক্ষা বলছে, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি-র আসন কমছে ঠিকই। কিন্তু তা খুব বেশি নয়। বিজেপি এ বারও উত্তরপ্রদেশে কমবেশি ৬৫ টি আসনে জিততে পারে। সেই সঙ্গে এ বারও রাজস্থানে ২৫ টি, গুজরাতে ২৬ টি এবং মধ্যপ্রদেশে ২৭ টি আসনে জিতে যেতে পারেন মোদী-শাহরা। শুধু তা না, মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগড়, বিহারেও তাদের ক্ষয়ক্ষতি বিশেষ হয়নি। উল্টে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেতে পারে বিজেপি। বাংলায় তারা পেতে পারে কমবেশি ১৮ টি আসন। আর ওড়িশায় ১২ টি আসনে জিততে পারে বিজেপি।
যদিও বিরোধীরা চাণক্যর এই সমীক্ষা মানতে নারাজ। আর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলেইছেন, এই এক্সিট পোলে তাঁর বিশ্বাস নেই।
বলে রাখা ভাল, কেবল দিদি নন, অনেকেই বুথ ফেরত সমীক্ষার উপর ভরসা করেন না। কারণ, অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে যে প্রকৃত ফলাফলের সঙ্গে বুথ ফেরত সমীক্ষা মেলেনি। তবে চাণক্য এ ক্ষেত্রে মোটামুটি ভাবে একটা ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ইদানীং তৈরি করে ফেলেছে। ২০১৫ সালে বিহারের ভোট ফলাফল নিয়ে তাদের সমীক্ষা ফেল করেছিল। তা ছাড়া গত পাঁচ-সাত বছরে কমবেশি সব ভোটেই তাদের সমীক্ষা প্রায় সঠিক হয়েছে।
এখন দেখার এ বারও পরীক্ষায় উতরে যান কিনা এ যুগের চাণক্য।