দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ভারত যে সঠিক পথে এগোচ্ছে তা এর আগে সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ভাইরাসের মোকাবিলায় যে লকডাউন ও র্যাপিড টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার ফল ইতিমধ্যেই দেখা দিচ্ছে বলে এবার জানানো হল স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে। জানিয়ে দেওয়া হল, ভারতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ৪০ শতাংশ কমেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে করোনা আক্রান্তের ‘ডাবলিং রেট’। কোভিড ১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা অর্থাৎ ওভারকাম রেশিও অন্যান্য দেশের থেকে ভারতে ভাল বলেই জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল। তিনি বলেন, লকডাউন শুরু হওয়ার আগে ও শুরুর কয়েক দিনে অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের গ্রোথ রেট ছিল ২.১ শতাংশ। ১ এপ্রিলের পর থেকে সেই গ্রোথ রেট ১.২ শতাংশ। অর্থাৎ এই গ্রোথ রেট বা বৃদ্ধির হার ৪০ শতাংশ কমেছে। কোনও একদিনে আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে তার পরে দিনের আক্রান্তের সংখ্যা হিসেব করে এই বৃদ্ধির হার পরিমাপ করা হয় বলে জানিয়েছেন লব আগরওয়াল।
এদিন যুগ্ম সচিব আরও বলেন, ভারতে দু’সপ্তাহ আগে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার ডাবলিং রেট অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময় ছিল ৩ দিন। সেটাই বর্তমানে ৬.২ দিন। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময় অর্ধেক হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশের ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ডাবলিং রেট দেশের ডাবলিং রেট-এর থেকে কম বলেও জানিয়েছেন লব আগরওয়াল। এই ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হল কেরল, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, পুদুচ্চেরি, বিহার, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক, পঞ্জাব, অসম, ত্রিপুরা, দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর, চণ্ডীগড় ও লাদাখ। অর্থাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম নেই।
সাংবাদিক সম্মেলনে লব আগরওয়াল বলেন, শুধুমাত্র বৃদ্ধির হার কমেনি, ভারতের ওভারকাম রেশিও অন্য দেশের তুলনায় ভাল। এই রেশিও বিচার করা হয় কোভিড ১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ও মৃত্যুর সংখ্যা বিচার করে। সেখানে দেখা যাচ্ছে সুস্থ হয়ে ওঠার শতাংশ ৮০ ও মৃত্যুর শতাংশ ২০। এই রেশিও ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় ভাল বলেই জানিয়েছেন তিনি।
লকডাউন ও র্যাপিড টেস্ট করার ফলেই ভারতে করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেক ভাল বলেই জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব। এই র্যাপিড টেস্টের পরিমাণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও করোনা মোকাবিলায় কোনও ড্রাগ কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে কিনা সেই পরীক্ষা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।