দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে চলা টানা হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলেও বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ক্যাম্পাসে কোনও আক্রান্তকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না।
জেএনইউ-এর রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমারের জারি করা শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র সংসদকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ছাত্র সংসদের কোনও এক্তিয়ার নেই কাউকে ক্যাম্পাসের মধ্যে আশ্রয় করে দেওয়ার। এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কড় ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
এখন প্রশ্ন হল, হঠাৎ কেন এমন নির্দেশিকা?
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, হিংসার জন্য যাঁরা বাড়ি ফিরতে পারছেন না, তাঁরা চাইলে জেএনইউ ক্যাম্পাসে আসতে পারেন। ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের আগলে রাখবে। যদিও সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা করেনি ছাত্র সংসদ। পুরোটাই মানবিকতার কারণে মৌখিক ভাবে বলা হয়েছিল বলে দাবি ছাত্র সংসদের। তার প্রেক্ষিতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাসিন্দাদের অনেকে রেজিস্ট্রারের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ জানান বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাঁর জানান, ক্যাম্পাসের মধ্যে বাইরের লোক এলে তাঁদের নিরাপত্তা সংশয়ের মধ্যে পড়ে যাবে। তারপরই গতকাল রাতে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ।
টানা সাতদিন ধরে তাণ্ডব চলেছে রাজধানীর বুকে। পুলিশ আধিকারিক, গোয়েন্দা অফিসার থেকে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার ঝড়। যদিও শনিবার পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বাইরের কোনও লোক আশ্রয় নেননি বলেই খবর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।