দ্য ওয়াল ব্যুরো: চা বাগানের এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর উন্মত্ত শ্রমিকদের হাতে মার খেয়ে মৃত্যু হলো সরকারি হাসপাতালের এক ডাক্তারের। ঘটনাটি ঘটেছে অসমের জোড়হাট জেলার টিওক চা বাগানে। এই ঘটনার ভিডিয়োও প্রকাশ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সিনিয়র পুলিশ অফিসার রোশনি আপারাঞ্জি কোরাতি জানিয়েছেন, "৭৩ বছর বয়সী ডাক্তার দেবেন দত্তকে মারধর করেন চা বাগানের শরমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, ডাক্তার দত্তর গাফিলতিতেই সোমরা মাঝি নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।" এই ঘটনার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, জোড়হাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভিতরেই শ্রমিকদের হাতে মার খাচ্ছেন ডাক্তার দেবেন দত্ত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দরকারের সসময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না তিনি।
হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী সোমরা মাঝিকে তাঁর আত্মীয় ও অন্যান্য শ্রমিকরা শনিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেই সময় তাঁর অবস্থা গুরুতর ছিল। কিন্তু সেই সময় হাসপাতালে ছিলেন না ডাক্তার দেবেন দত্ত। ফার্মাসিস্টও ছুটিতে ছিলেন। কর্তব্যরত নার্স সোমরাকে স্যালাইন দিলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর সাড়ে তিনটের দিকে হাসপাতালে আসেন ডাক্তারবাবু। তখনই তাঁর উপর চড়াও হন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তাঁকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তারপর পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে এসে তাঁকে উদ্ধার করে। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয় তাঁর।
জানা গিয়েছে, ডাক্তার দেবেন দত্ত অবসর নেওয়ার পর চা বাগানের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তিনি জোড়হাটের সবথেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার ছিলেন। এই ঘটনার পরেই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।