দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে লখনউতে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তেমন কয়েকজনের বাড়িতে শনিবার যাওয়ার পথে মাঝ রাস্তায় আটকে দেওয়া হয় কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে। সনিয়া কন্যা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে। এমনকি পুলিশ কনস্টেবল তাঁর গলাও পেঁচিয়ে ধরেছিলেন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলা কনস্টেবল সাফাই দিলেন রবিবার।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে ওই মহিলা পুলিশকর্মী বলেছেন, “আমি আমার ডিউটি করেছি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রিয়ঙ্কাকে কোনও ভাবেই হেনস্থা করা হয়নি।”
নাগরিকত্ব আন্দোলনের প্রতিবাদে গত ১ ডিসেম্বর থেকে গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন সফদর জফর। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই যাচ্ছিলেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া। এক কংগ্রেস কর্মীর স্কুটিতে চেপে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝরাস্তাতেই তাঁকে আটকে দেয় পুলিশ।
মাঝপথে পুলিশ আটকে দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন প্রিয়ঙ্কা। শনিবার সন্ধেবেলা তিনি বলেন, “আমি কী বলব! মাঝরাস্তাতেই পুলিশ আমায় আটকে দিল। অকারণে আমায় আটকে দেওয়া হল। ভগবান জানেন কেন পুলিশ আমায় আটকাল।” এক মহিলা পুলিশ কনস্টেবল তাঁকে ধাক্কা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন সনিয়া-কন্যা।
জফরের বাড়ি ঘুরে প্রিয়ঙ্কার যাওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এসআর দরপুরির বাড়িতে। ৭৬ বছর বয়সী এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তাকেও বিক্ষোভের জন্য গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তিনি ক্যানসার রোগী। তাঁকে বেশ কয়েকদিন পুলিশ হেফাজতেও থাকতে হয়। কিন্তু কোনও জায়গাতেই যেতে পারেননি প্রিয়ঙ্কা।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বক্তব্য, ওই সমস্ত এলাকায় প্রিয়ঙ্কা গেলে উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কয়েকদিন আগেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে লখনউ বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশের ডিজি ওপি সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, আইনশৃঙ্খলার কারণেই দীনেশ ত্রিবেদী, প্রতিমা মণ্ডলদের ঢুকতে দেওয়া হবে না।
উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত হাজার খানেক ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রাজ্য জুড়ে চলছে ধরপাকড়। কিন্তু তাতেও নতুন অশান্তি থামার কোনও নামগন্ধ নেই। নতুন অশান্তির কথা আন্দাজ করে শনিবার ১২টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে যোগী সরকার।
গত সপ্তাহ থেকে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে যে হিংসা ছড়িয়েছে, তার একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে রাজ্য পুলিশ। তাতে দেখা গেছে, দু’জন পুলিশ অফিসারের উপর গুলি চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের দাবি, মোট ২৮৮ জন পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন। উল্টো দিকে পরিসংখ্যান বলছে, সংঘর্ষে মৃতদের মধ্যে সকলেই সাধারণ নাগরিক। তাঁদের মধ্যে এক জন ২০ বছরের এক হবু সিভিল সার্ভিস অফিসার।
প্রায় সমস্ত বিরোধী দলের নেতারাই সরব হয়েছেন বিক্ষোভ রোখার নামে পুলিশি হামলার বিরুদ্ধে। বিএসপি নেত্রী মায়াবতী টুইট করে বলেছেন, “নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদের জেরে সবচেয়ে বেশী মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এই মৃত্যুর তদন্ত করতে হবে রাজ্য সরকারকে। নির্দোষ পরিবারগুলিকে সাহায্য করতে হবে।”