বাড়ি ফিরতে গাজিয়াবাদের রামলীলা ময়দানে ভিড় পরিযায়ী শ্রমিকদের, সামাজিক দূরত্ব শিকেয়
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়াতে পথ দুর্ঘটনায় ২৬ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর পরে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে কোনও শ্রমিক নিজেদের রাজ্যে ফিরতে পারবেন না। সবাইকে বাসে করে
শেষ আপডেট: 18 May 2020 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়াতে পথ দুর্ঘটনায় ২৬ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর পরে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে কোনও শ্রমিক নিজেদের রাজ্যে ফিরতে পারবেন না। সবাইকে বাসে করে নিকটবর্তী রেল স্টেশনে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। তারপর সেখান থেকে ট্রেনে করে সবাইকে পাঠানো হবে নিজেদের রাজ্যে। আর সেই প্রক্রিয়া শুরু হতেই গাজিয়াবাদে দেখা গেল হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের।
সোমবার গাজিয়াবাদের রামলীলা ময়দানে সরকারের তরফে বেশ কয়েকটি কাউন্টার খোলা হয়। সেখানে বাসে যাওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করার কথা বলা হয় শ্রমিকদের। আর তারপরেই দেখা যায় দলে দলে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন শ্রমিকরা। আর সেটা করতে গিয়েই শিকেয় উঠেছে সামাজিক দূরত্ব। একে অন্যের গায়ের উপর উঠে পড়ছেন। কারও মুখে মাস্ক নেই। সবাই একটা কাপড় বেঁধে রয়েছেন।
এই দৃশ্য দেখার পরেই প্রশ্ন ওঠে এভাবে সামাজিক দূরত্ব শিকেয় তুলে যে ভিড় হয়েছে তাতে তো কোভিড সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে। জনৈক এক শ্রমিক সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আমি রোগের ব্যাপারে কিছু জানি না। কিন্তু আমি না খেয়ে মরতে চাই না। তাই যতক্ষণ আমাকে অপেক্ষা করতে হয় করব। কিন্তু বাড়ি যেতেই হবে।” সরকারের অব্যবস্থার বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন অনেক শ্রমিক। তাঁদের অভিযোগ, যেভাবে কাগজপত্র দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হচ্ছে তা খুবই কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। কেউ তো আবার অনেক বেশি ভাড়া চাওয়ারও অভিযোগ করেছেন।
গত শনিবার আইরাইয়াতে দুটি ট্রাকের ধাক্কায় ২৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ৩৬ জন। তারপরেই যোগী প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় সীমান্তবর্তী এলাকায় যেসব পরিযায়ী শ্রমিকরা রয়েছেন, তাঁদের হেঁটে বা সাইকেলে কিংবা ট্রাকে চড়ে বাড়ি যেতে দেওয়া চলবে না। সবার জন্য বাসের ব্যবস্থা করবে সরকার। যাঁদের বাড়ি দূরের রাজ্যে, তাঁদের ট্রেনে করে পাঠানো হবে। সেইমতো রবিবার বন্ধ করে দেওয়া হয় উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক আটকে পড়েন। তাঁরা যোগী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। যদিও তাঁদের সামলানোর দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা বলেন, এই শ্রমিকদের খাবারের ব্যবস্থা করে সরকারই তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তারজন্যই আটকানো হয়েছে শ্রমিকদের। তারপরেই এদিন গাজিয়াবাদে দেখা গেল এই দৃশ্য।