দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনে বার্ড ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর খবর মিলেছে। কিন্তু দেশে এই প্রথম। বার্ড ফ্লু তথা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে দিল্লির এইমসে চিকিৎসা চলছিল ১১ বছরের এক কিশোরের। এইমসের ডাক্তাররা বলেছেন, বার্ড ফ্লু ভাইরাসের কারণেই মৃত্যু হয়েছে ছেলেটির। তার শরীরে এইচ৫এন১ সংক্রামক স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে।
সূত্রের খবর, গত ২ জুলাই নিউমোনিয়া ও লিউকেমিয়ার উপসর্গ নিয়ে দিল্লির এইমসে ভর্তি হয়েছিল ছেলেটি। হরিয়ানার বাসিন্দা। প্রথমে মনে করা হয়েছিল কিশোর কোভিড আক্রান্ত। কিন্তু করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরে তার শরীর থেকে নেওয়া নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে (এনআইভি) পাঠানো হয়। সেখান থেকেই অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের খবর আসে।
চলতি বছরের গোড়ায় রাজ্যে রাজ্যে পোলট্রি ফার্মগুলিতে বার্ড ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছিল সরকার। প্রায়দিনই ভাইরাসের সংক্রমণে পাখি মৃত্যুর খবর আসছিল। রাস্তায় শয়ে শয়ে কাক মরে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু মানুষের শরীরে সংক্রমণের কোনও খবর মেলেনি। এবার বার্ড ফ্লু ভাইরাসের হানায় দেশে প্রথম মানুষের মৃত্যুর খবর আসার পরে চিন্তা কয়েকগুণ বেড়েছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানাচ্ছে, ছেলেটি হরিয়ানার যে গ্রামের বাসিন্দা সেখানকার পোলট্রি গুলিতে বার্ড ফ্লু ভাইরাস হানা দিয়েছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য টিম পাঠানো হচ্ছে। দিল্লির চিড়িয়াখানাতেও বার্ড ফ্লু ভাইরাস দেখা দিয়েছিল। সেখানেও ফের পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
করোনা আতঙ্কের মধ্যে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা তথা বার্ড ফ্লু নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে মৃত পাখিদের নমুনায় অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। বার্ড ফ্লুয়ের কারণেই যে পাখি মৃত্যু হয়েছে সেটা নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, দেশের ৯টি রাজ্যে বার্ড ফ্লু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল যার মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, কেরল, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, হরিয়ানা ও গুজরাট। পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র ও কেরলে একসময় বার্ড ফ্লু আতঙ্কে ৫০ হাজারের বেশি পাখি মেরে ফেলা হয়েছিল। এই রাজ্যগুলিতে ফের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বার্ড-ফ্লু ভাইরাস হল বিশেষ ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যা শুধু পাখি নয়, মানুষ ও অন্যান্য পশুর শরীরেও সংক্রামিত হতে পারে। থুতু-লালা ড্রপলেটের মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ভারতে এখনও অবধি দুই ধরনের বার্ড-ফ্লু তথা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে—এইচ৫এন১ এবং এইচ৭এন৯। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের শরীরে ঢুকলে করোনাভাইরাসের মতোই দ্রুত বিভাজিত হতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেন। সংক্রমণও ছড়াতে পারে দ্রুত। উপসর্গও করোনা সংক্রমণের মতোই। তবে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে এই ভাইরাল স্ট্রেন দ্রুত সংক্রামিত হতে পারে কিনা, সে তথ্য এখনও মেলেনি।