লকডাউনে অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন পুলিশ কনস্টেবল, তাঁর নামেই নবজাতকের নামকরণ দম্পতির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বন্ধ যান চলাচল। সবরকমের পরিবণ পরিষেবাই বন্ধ রয়েছে গত ২৫ মার্চ থেকে। তবে এই লকডাউনের মধ্যেই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল দিল্লির এক অন্তঃসত্ত্বার। স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্
শেষ আপডেট: 25 April 2020 05:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বন্ধ যান চলাচল। সবরকমের পরিবণ পরিষেবাই বন্ধ রয়েছে গত ২৫ মার্চ থেকে। তবে এই লকডাউনের মধ্যেই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল দিল্লির এক অন্তঃসত্ত্বার। স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের জোগাড় করতে পারেননি স্বামী। তখনই ওই দম্পতিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল দয়াবীর সিং। অশোক বিহার থানার বছর ৩১-এর ওই কনস্টেবলই দায়িত্ব নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁর স্বামীকে। ধন্যবাদ স্বরূপ ওই কনস্টেবলের নামেই ছেলের নাম রেখেছেন ওই দম্পতি।
উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ওয়াজিরপুর এলাকার বাসিন্দা অনুপা এবং বিক্রম। অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন অনুপা। আচমকাই শুরু হয় প্রসব বেদনা। হাজার চেষ্টা করেও হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের জোগাড় করতে পারেননি বিক্রম। অগত্যা ফোন করেন অশোক বিহার থানায়। দম্পতির অসুবিধের কথা শুনেই ছুটে যান কনস্টেবল দয়াবীর সিং। ওয়াজিরপুরের শিল্পাঞ্চল এলাকায় অনুপ-বিক্রমের বাড়িতে পৌঁছে পুলিশের গাড়ি করেই তাঁদের হিন্দু রাও হাসপাতালে পৌঁছে দেন ওই কনস্টেবল।
https://twitter.com/ANI/status/1253671980638670849
এই ঘটনা গত বৃহস্পতিবারের। সন্ধে সাতটার সময় অনুপা এবং বিক্রমকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন কনস্টেবল দয়াবীর সিং। সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন অনুপা। সন্তানের জন্মের পরেই অনুপা এবং বিক্রম ঠিক করেন ছেলের নাম রাখবেন দয়াবীর। দম্পতির এই সিদ্ধান্তে যারপরনাই খুশি দিল্লি পুলিশ। আর মৃদু হেসে দয়াবীর বলছেন, “আমি শুধুই দায়িত্ব পালন করেছি। ওঁরা আমায় এত সম্মান দিচ্ছেন, খুব ভাল লাগছে।“
দশ বছর ধরে দিল্লি পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল দয়াবীর সিং। বছর দেড়েক আগে তাঁর পোস্টিং হয়েছে অশোক বিহার থানায়। ঘটনার দিন দয়াবীর যেভাবে ওই দম্পতিকে সাহায্য করেছেন সেই গল্প এখনও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কনস্টেবল দয়াবীর সিংকে তাঁর কাজের জন্য কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলেই। অন্যদিকে অনুপা এবং বিক্রমের কথায়, “উনি না থাকলে কী হত জানি না। ওঁর জন্যই সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতে পেরেছি। সুস্থ ভাবে সন্তানের জন্ম দিতে পেরেছি। তাই ওনাকে সম্মান জানিয়েই ছেলের নাম রেখেছি দয়াবীর।“