দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হিংসার বলি হয়েছেন গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মা। বুধবার তাঁর বাড়ির কাছে একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হয়েছিল এই আইবি অফিসারের দেহ। ছেলের মৃত্যুতে আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন অঙ্কিতের বাবা রবীন্দ্র শর্মা। বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন তাহির হুসেন। তবে এবার আম আদমি পার্টির এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেই মামলা রুজু হয়েছে। আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মাকে খুন এবং আগুন লাগিয়ে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে তাহির হুসেনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর।
গত রবিবার থেকেই উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লি। এখনও পর্যন্ত হিংসার বলি হয়েছেন ৩৭ জন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন এই তরুণ গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মা। মঙ্গলবার জাফরাবাদে নিজের বাড়িতে ফেরার সময় তাঁকে আক্রমণ করে উন্মত্ত জনতা। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। বুধবার বাড়ির কাছেই একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হয় অঙ্কিতের দেহ। ছেলের দেহ উদ্ধারের পরই অঙ্কিতের মৃত্যুর জন্য আপ নেতা তাহির হুসেনকে দায়ী করেন মৃত আইবি অফিসারের বাবা রবীন্দ্র শর্মা। পেশায় তিনিও একজন আইবি অফিসার। বর্ষীয়ান এই ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে মারধরের পর গুলি করে খুন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে অঙ্কিত শর্মার দেহ।
অন্যদিকে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে অঙ্কিতের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাহির হুসেনের পাঁচতলা বাড়ির ছাদ থেকে পাথর ও পেট্রোল বোমা ছোড়া হচ্ছিল। সেই পাথরের আঘাতেই অঙ্কিতের মৃত্য হয়ে থাকতে পারে। অঙ্কিত শর্মার মৃত্যু নিয়ে টুইটারে ক্রমাগত নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। তিনি একাধিক টুইট করে বোঝাতে চেয়েছেন, আপ কাউন্সিলরের মদতেই এলাকায় অশান্তি হচ্ছে। অথচ তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে কেজরিওয়ালের সরকার। এমনকি এই সংঘর্ষের পিছনে কেজরিওয়ালের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যদিও বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে এসেছে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা গিয়েছে, আপ কাউন্সিলর তাহির হুসেন নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যে। কপিল মিশ্রর উস্কানিমূলক কথার পরেই এই গণ্ডগোল শুরু হয়েছে। আমার বাড়ির এলাকাতেও পাথর ছোড়া, বোমাবাজি সব হয়েছে। বুধবার কয়েকজন আমার বাড়িতে দরজা ভেঙে ঢুকে আসে। তারা ছাদে উঠে যায়। তখনই আমি পুলিশকে ডাকি। তাদের ছাদ থেকে নেমে যেতে বলি। তখনই হয়তো ছাদে ওই ভিডিওতে আমাকে দেখা গিয়েছে।”
প্রসঙ্গত এদিন আর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে টুইটারে। সেখানে দেখা গিয়েছে, তাহির হুসেন নিজের বাড়ির ছাদে ঘোরাঘুরি করছেন। ছাদের উপরে আরও অনেকে আছে। তারাই নীচে পাথর ও পেট্রোল বোমা ছুড়ছে বলে অভিযোগ প্রতিবেশীদের। একসময় তো তাহিরকে হাতে লাঠি নিয়ে থাকতেও দেখা যায়। এই ভিডিওতে আরও দেখা যায় আপ কাউন্সিলরের বাড়ির নীচেও ধোঁয়া উঠছে। যদিও তাহির হুসেনের দাবি তাঁর বাড়িতে জোর করে কয়েকজন তাণ্ডবকারী ঢুকে পড়েছিল।
তাঁর কথায়, “পুলিশ এসে সবাইকে ছাদ থেকে নামিয়ে দেয়। আমি বলি বাড়ির বাইরে পাহারা বসাতে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরে ফের পুলিশ চলে যেতেই এক অবস্থার সৃষ্টি হয়। যা হয়েছে তাতে আমিই খুব দুঃখিত। আমি একজন শান্তিপ্রিয় মুসলিম। আমি সবসময় হিন্দু-মুসলিমের একতার জন্য কাজ করেছি।” এই ভিডিওতেও অবশ্য সেই একই পোশাকে দেখা যায় তাহির হুসেনকে, যে পোশাকে লাঠি হাতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।