দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হিংসায় বলি হয়েছিলেন গোয়েন্দা অফিসার অঙ্কিত শর্মা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেন। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে সলমন নামের আর এক যুবককেও গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল।
এবার এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় জড়িত রয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর এদের মধ্যে চারজন ফিরোজ, জাভেদ, গুলফাম এবং শোয়েব দিল্লির চাঁদবাগের বাসিন্দা। আর এক ধৃত আনাস মুস্তাফাবাদের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ধৃত সলমকে চারদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে দিকে সিএএ বিরোধী এবং সমর্থকদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই হিংসারই শিকার হয়েছিলেন আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মা। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হয়েছিল তাঁর রক্তাক্ত থেঁতলানো দেহ। নিজের ছেলেকে দেখে প্রথমে চিনতে পারেননি অঙ্কিতের বাবা। তিনি জানিয়েছিলেন, অঙ্কিতের শরীরের কোনও অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকতে বাকি ছিল না। পরনে ছিল কেবল অন্তর্বাস। অত্যাচার, মারধর, ধারাল অস্ত্রের আঘাত সবের চিহ্নই ছিল স্পষ্ট।
চাঁদবাগ এলাকায় বাড়ির কাছে একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হয় অঙ্কিতের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে মোট ৫১টি আঘাতের চিহ্ন ছিল অঙ্কিতে শরীরে। ফুসফুসে এবং মাথায় গভীর ক্ষত এবং হ্যামারেজের জেরেই মৃত্যু হয়েছে এই তরুণ আইবি অফিসারের।
ওই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে অঙ্কিতের দেহে ১২টি এমন ক্ষত পাওয়া গিয়েছে যেগুলো দেখে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে ধারাল কোনও অস্ত্র দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়েছে তাঁকে। থাই, পা এবং পিঠে রয়েছে বারবার কোপানোর চিহ্ন। এছাড়াও প্রায় ৩৩টি এমন ক্ষত রয়েছে যেগুলো ভোঁতা কোনও জিনিস যেমন রড দিয়ে আঘাতের ফলে হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এইসব আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয়েছিল অঙ্কিত শর্মার।