দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময় করোনা সংক্রমণের এপিসেন্টার হয়ে উঠেছিল দিল্লি। এখন সেখানেই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে চলেছে। এমন সম্ভাবনার কথাই বলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেরো সার্ভের রিপোর্ট বলছে, রাজধানীর ৫০-৬০ শতাংশ মানুষের শরীরেই সক্রিয় করোনার অ্যান্টিবডি। তাছাড়া টিকাকরণও শুরু হয়ে গেছে, কাজেই ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হবে বেশিরভাগের শরীরেই। একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হলেই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে শুরু করবে।
দিল্লির মোট ১১টি জেলায় ২ কোটি মানুষের বাস। সরকারি তথ্য বলছে, এখনই অন্তত ৬ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ সংক্রামিত হয়েছেন। তবে সেরো সার্ভের রিপোর্ট বলছে, দিল্লিতে অন্তত ১ কোটি মানুষের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি মিলেছে। অর্থাৎ অজান্তেই সংক্রামিত হয়েছেন অনেকে, আবার রোগ সেরেও গেছে বহুজনের। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের সমীক্ষা বলছে, দিল্লির অন্তত ১০টি জেলায় ৬০ শতাংশের বেশি জনের মধ্যে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি রয়েছে। কাজেই একটা বড় অংশ জুড়ে ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে।
জুন মাসের শেষ থেকে রক্তে অ্যান্টিবডি টেস্ট বা সেরো সার্ভে চলছে রাজধানীতে। শুরুতে বলা হয়েছিল দিল্লিতে মাত্র ২২ শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। পরে সেই সংখ্যাই বেড়ে ২৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছয়। সেপ্টেম্বরের সার্ভে রিপোর্ট বলছে, দিল্লিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ মানুষ কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন অজান্তেই এবং তাঁদের অনেকে সেরেও গেছেন। এই রোগীদের একটা বড় অংশই উপসর্গহীন অর্থাৎ রোগের কোনও বাহ্যিক লক্ষণ নেই। তাই কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ে এদের চিহ্নিত করাও সম্ভব হয়নি।
গত ১ অগস্ট থেকে দিল্লিতে দ্বিতীয় দফায় সেরো সার্ভে শুরু হয়েছিল। চলেছিল ৭ অগস্ট অবধি। মোট ১৫ হাজার জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সমীক্ষা বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমে এই সংখ্যা কিছুটা কম, ১২.৯৫ শতাংশ। সেরো সার্ভের রিপোর্টে দেখা গেছে ৩২.২ শতাংশ মহিলার শরীরে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ২৮.৩ শতাংশ পুরুষের শরীরে মিলেছে করোনার অ্যান্টিবডি। সেদিক থেকে মহিলাদের শরীরে ভাইরাসের মোকাবিলায় জোরালো রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠছে।
গবেষকের দাবি, সেরো সার্ভের রিপোর্ট থেকেই বোঝা যাচ্ছে এখনও অবধি একটা ক্লাস্টারের মধ্যে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ ওই গোষ্ঠীর মানুষদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠছে। যে এলাকাগুলিতে করোনা আক্রান্তদের রক্তে অ্যান্টিবডি মিলেছে সেখানে ধীরে ধীরে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমবে। তার কারণ, কোনও এলাকার মোট জনসংখ্যার একটা অংশের মধ্যে যদি রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠতে শুরু করে তাহলে বাকিরাও অনেকটাই সুরক্ষিত হয়ে যান। কারণ ভাইরাস আর বেশি মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে না। একটা পর্যায়ের পরে গিয়ে ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল হতে থাকে। নির্মূল না হলেও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমে। এইভাবেই গড়ে ওঠে হার্ড ইমিউনিটি। দিল্লির কিছু এলাকা এই হার্ড ইমিউনিটি তৈরির পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছে।