বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাটে ধর্ষণের পরিকল্পনা, গ্রেফতার দিল্লির স্কুল পড়ুয়া
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্সটাগ্রামে গ্রুপ তৈরি করে মেয়েদের ছবি পোস্ট করে চলছিল অশ্লীল কথোপকথন। এমনকি ধর্ষণ করার পরিকল্পনাও হয়েছে সেখানে। নাবালিকা মেয়েরাও বাদ নেই এই তালিকা থেকে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কাজ করছে দিল্লির নামীদামি স্কুলের ছাত্ররা। এই
শেষ আপডেট: 5 May 2020 09:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্সটাগ্রামে গ্রুপ তৈরি করে মেয়েদের ছবি পোস্ট করে চলছিল অশ্লীল কথোপকথন। এমনকি ধর্ষণ করার পরিকল্পনাও হয়েছে সেখানে। নাবালিকা মেয়েরাও বাদ নেই এই তালিকা থেকে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কাজ করছে দিল্লির নামীদামি স্কুলের ছাত্ররা। এই ঘটনা সামনে আসে রবিবার। গ্রেফতারের দাবি ওঠে ওই পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। তারপরেই এক স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, ধৃত ছাত্র দিল্লির এক নামকরা স্কুলের পড়ুয়া। পুলিশ সূত্রে খবর, তাকে গ্রেফতার করার পরে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশি জেরায় আরও ২০ জন ছাত্রের নাম জানিয়েছে সে। তার ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল।
পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ দিল্লির চার-পাঁচটি স্কুলের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কিছু ছাত্র মিলে ইনস্টাগ্রামে এই গ্রুপটি বানিয়েছিল। এই গ্রুপের নাম দেওয়া হয় ‘বয়েজ লকার রুম’। সেখানে ওই ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে মেয়েদের নিয়ে অশ্লীল আলোচনা করে। মেয়েদের অনুমতি ছাড়াই তাদের ছবি পোস্ট করা হয়। তারপরে সেই ছবি দেখে চলে কমেন্ট। কেউ তাদের ধর্ষণ করার কথা বলে। কী ভাবে ধর্ষণ করবে সে কথাও জানায়। কেউ তো আবার গণধর্ষণের প্রস্তাব দেয়। নাবালিকা মেয়ে ও স্কুলের শিক্ষিকারাও বাদ নেই এই তালিকা থেকে। অনলাইন ক্লাস চলাকালীনই শিক্ষিকাকেও ধর্ষণের আলোচনা হয় সেখানে।
সেই গ্রুপেরই কিছু স্ক্রিনশট রবিবার ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরেই শুরু হয় সমালোচনা। ওই ছেলেদের মানসিকতার নিন্দা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কী ভাবে নিজেদের ক্লাসের ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে এরকম মন্তব্য তারা করছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন অনেকে। প্রশ্ন ওঠে, মেয়েরা কি শুধুমাত্র একটা বস্তু, যাদের মিয়ে যা ইচ্ছে মন্তব্য করা যায়।
এই গ্রুপের ব্যাপারে প্রথম প্রকাশ করেন ১৯ বছরের এক কলেজ ছাত্রী। কোনওভাবে তিনি দেখেন ওই গ্রুপে তাঁর ছবি দেওয়া হয়েছে। তাঁর অনুমতি ছাড়াই এভাবে তাঁর ছবি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় তিনি ওই ছাত্ররা যে স্কুলগুলির পড়ুয়া তাদের মধ্যে একটি স্কুলে অভিযোগ জানান। তারপর স্কুলের তরফে পুলিশে অভিযোগ করা হয়। একথা জানাজানি হতে ওই ছাত্রীকে নাকি নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকিও জানায় কয়েকজন পড়ুয়া।
দিল্লির মহিলা কমিশনের তরফে এই পরিপ্রেক্ষিতে একটা অভিযোগ দায়ের করা হয় দিল্লি পুলিশের কাছে। মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল বলেন, “দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের গ্রেফতার করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ইনস্টাগ্রামকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।”
মহিলা কমিশনের নোটিসের পর দিল্লি পুলিশের তরফেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় যারা যুক্ত তাদের খোঁজ শুরু হয়। সাইবার পুলিশের তরফে ইনস্টাগ্রামকেও একটি নোটিস পাঠানো হয়। তারপরেই এই গ্রুপটিকে বন্ধ করে দেয় ইনস্টাগ্রাম।
এই ঘটনা সামনে আসার পর মনোবিদরা জানিয়েছেন, এই মানসিকতা সমাজের পক্ষে খুব খারাপ। এই ছেলেদের কাছে মেয়েরা শুধুমাত্র ভোগের বস্তু। তাদের নিয়ে যা ইচ্ছা মন্তব্য করা যায়। মেয়েদের সম্মান করতে জানে না এই ছেলেরা। ধর্ষণের মতো ঘটনাকে খুব স্বাভাবিক ভাবে তারা। এই মানসিকতা বাড়তে থাকলে তা সমাজের পক্ষে খুবই খারাপ। পুলিশকে ব্যবস্তা তো নিতেই হবে, তার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে এই ছেলেদের অভিভাবকদের। নইলে এই মানসিকতার পরিবর্তন হবে না বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।