দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দলের মধ্যে বচসা থামাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হল এক যুবককে। ২২ বার ছুরির কোপ মারা হল তাঁকে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি তাঁর আরও দুই বন্ধু। তাঁদের সঙ্গেই বচসা বাধে আরও তিনজনের। সেই বচসা থামানোর চেষ্টা করেন ওই যুবক। তখনই তাঁর উপর হামলা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লিতে। মৃত যুবকের নাম নীরজ। তাঁর দুই বন্ধুর নাম মুকেশ ও রাকেশ। তাঁরা দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, তিন অভিযুক্তের মধ্যে একজন নাবালক। বাকি দুই অভিযুক্ত কিষাণ ও রবি ওই একই হাসপাতালে কাজ করত। কিন্তু তাদের জায়গায় মুকেশ ও রাকেশকে কাজে রাখা হয়। তাই তাদের রাগ ছিল এই দু’জনের উপর। তারা পরিকল্পনা করে দু’জনের উপর হামলা চালাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে ঘটে এই ঘটনা। নিজেদের কাজ শেষ করার পরে হাসপাতাল থেকে বাড়ির পথ ধরেন মুকেশ ও রাকেশ। তাঁদের সঙ্গে তাঁদের বন্ধু নীরজও ছিলেন। পথে তাঁদের সামনে আসে কিষাণ ও রবি। সঙ্গে এক নাবালকও ছিল।
জানা গিয়েছে, দুই দলের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ধীরে ধীরে বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে।অভিযুক্তরা ছুরি বের করে মুকেশ ও রাকেশের উপর হামলা চালালে নীরজ তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। তখন রাগে নীরজকে কোপাতে থাকে তারা। বেশ কিছুক্ষণ পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পথচারীরা তিনজনকে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই নীরজকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, ২২ বার ছুরি মারা হয়েছে তাঁকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বাকি দু’জনও গুরুতর আহত। তাঁরা হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন।
এই ঘটনার পরে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। দক্ষিণ পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। নাবালককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।