দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে একটি পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত অবস্থায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান তাঁরা। অভিযোগ নেওয়া তো দূর, উলটে তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ জানায় পুলিশ। অবশেষে দিল্লি মহিলা কমিশনের হস্তক্ষেপের পর অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধেবেলা। জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির রানিবাগ এলাকার ঋষি নগরে কয়েকটি পথ কুকুরকে সাহায্য করতে যান একটি পশুপ্রেমী সংগঠন ‘নেবারহুড উফ’-এর সদস্যরা। তখনই তাঁদের স্থানীয় বাসিন্দারা মারধর করেন বলে অভিযোগ। ভাঙচুর করা হয় তাঁদের গাড়ি।
এই ঘটনার পরে থানায় অভিযোগ জানাতে এলে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করতে চায়নি বলেই অভিযোগ। বাধ্য হয়ে একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে পুরো ঘটনার কথা জানান ওই সংগঠনের এক সদস্যা। তারপরেই শুরু হয় সমালোচনা।
সংগঠনের সদস্য আয়েষা ক্রিশ্চিনা এই ভিডিওটি করেন। ফেসবুক লাইভে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছেন তিনি। তাঁর মুখে আঘাত লেগেছে। জামাতেও রক্ত লেগে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমরা কুকুরদের ধরছিলাম, তখন আমাদের মারধর করা হয়। প্রথমে একজন এসে আমাদের এক সদস্যের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। আমাদের সবসময় মুখ বুঝে এই সব সহ্য করতে হয়। যখন আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করি তখন আমাদের সঙ্গে এই হয়।” তারপর তিনি নিজের অন্য সহকর্মী বিপিন, অভিষেক, দীপকের সামনে গিয়ে তাঁদের অবস্থা দেখান। প্রত্যেকেই গুরুতর আহত। তাঁদের গাড়িও যে ভাঙচুর করা হয়েছে তা ভিডিওতে দেখা যায়।
মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিও। চারদিক থেকে ওই সংগঠনের সদস্যদের সমর্থনে নেটিজেনরা মুখ খোলেন। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেও মুখ খুলতে শুরু করেন তাঁরা। হস্তক্ষেপ করেন দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল। তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বাতী মালিওয়াল টুইট করে বলেন, “এটা খুবই লজ্জাজনক ঘটনা যে যাঁরা নির্বাক পশুদের জন্য কাজ করেন, তাঁদের এভাবে মারধর করা হল। দিল্লি মহিলা কমিশন প্রতি মুহূর্তে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
https://twitter.com/SwatiJaiHind/status/1279430904453066752?s=19
শনিবার প্রথমে দিল্লি পুলিশের তরফে একটি বিবৃত জারি করে বলা হয়, “শুক্রবার রাতে ওই এনজিওর সদস্যদের পরিচয় জানতে চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তার থেকেই হাতাহাতি হয়। তারপর এনজিওর সদস্যরা গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের গাড়ির ধাক্কায় তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন। এই ধাক্কাতেই চোট লেগেছে ওই সদস্যদের।” পরে অবশ্য পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে তারা।