দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভালো চাকরি ও পড়াশোনার সুবিধার দাবিতে মহারাষ্ট্রের পুনেতে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মূক ও বধির তরুণ-তরুণী। কথা শোনা তো দূর, তাঁদের উপর চলল লাঠি। আটকও করা হলো কয়েকজনকে। এই ঘটনার সমালোচনা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।
সোমবার সকালে পুনের ডিজেবেলিটি কমিশনারের অফিসের সামনে জড়ো হন কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী। তাঁদের দাবি ছিল, চাকরি ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে তাঁদের সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু সেই দাবি না শুনেই তাঁদের উপর লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সরকার। পুনের পুলিশ কমিশনার কে ভেঙ্কটেশমের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।
এ দিনের জমায়েত হয়েছিল মূলত স্টেট লেভেল অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য ডিফ ( এসএলএডি ) নামের একটি এনজিওর তরফে। এই এনজিওর সেক্রেটারি প্রদীপ মোরে জানিয়েছেন, কারও কথা শোনেনি পুলিশ। লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকী কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন প্রদীপবাবু।
ইতিমধ্যেই পুলিশের মারের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। এই ভিডিওতে এও দেখা যাচ্ছে, প্রতিবাদী মূক ও বধির তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দাবিদাওয়া সংবাদমাধ্যমের সামনে জানাচ্ছেন। এসএলএডি'র তরফে জানানো হয়েছে, এরপর মুম্বইয়ে একটি মিছিল হবে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গে দেখা করতে চান তাঁরা। ইতিমধ্যেই এই ভিডিওর সমর্থনে আসছে হাজার হাজার কমেন্ট।
শুধু তাই নয়, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রের প্রায় ১৮ লক্ষ মূক ও বধির তরুণ-তরুণী ভোট দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মধ্যে যদি তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবেই তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র সরকারের সমালোচনা শুরু করেছেন বিরোধীরা। মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে জানিয়েছেন, এই প্রতিবাদীদের অভিশাপ ভোগ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। তিনি বলেন, "যাঁরা কথা বলতে পারেন না, শুনতে পান না, তাঁদের উপর এ ভাবে লাঠি চালানো খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। তাঁরা তো নিজেদের শিক্ষা ও চাকরির দাবি জানাচ্ছিলেন। এতেই ভয় পেল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারছেন না।"
এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে অভিযোগ করেছেন, "শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন। তাঁদের উপর লাঠি চালানো হলো। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় থাকার। তাঁর উচিত এখনই পদত্যাগ করা।"
অন্যদিকে প্রতিবাদীদের অভিযোগের উল্টোদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সেখানে গণ্ডগোলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল দেখেই লাঠি চালাতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনায় প্রায় ২৫০০ প্রতিবাদীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় প্রায় আট জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
https://thewall.in/news-national-how-can-there-be-no-jobs-if-bengal-alone-added-9-lakh-last-year-says-pm-modi/