দ্য ওয়াল ব্যুরো: আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। মুম্বইয়ের কাছে আলিবাগে ল্যান্ডফল শুরু হয়েছে নিসর্গের। তারপর তা মুম্বইয়ের উপর দিয়ে বয়ে যাবে। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মহারাষ্ট্র ও গুজরাত এই দুই রাজ্য এবং দমন-দিউ ও দাদরা-নগর হাভেলি এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উপর পড়বে বলে জানা গিয়েছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যেই মুম্বই ও থানেতে প্রবেশ করবে নিসর্গ। এই তিন ঘণ্টা ধরেই ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া চলবে।
গতকালই শক্তি বাড়িয়ে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিয়েছে নিসর্গ। তবে ল্যান্ডফলের আগে কিছুটা শক্তি খুইয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে তা পরিণত হবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। তবে ১৩৫ বছরে মুম্বই কোনও ঘূর্ণিঝড় দেখেনি। এই পরিস্থিতি সেখানকার প্রশাসন থেকে শুরু করে বাসিন্দা সবার কাছেই এক নতুন অভিজ্ঞতা। তাই অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে উদ্ধব ঠাকরে সরকার।
মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই সময় কেউ যেন বাড়ির বাইরে না থাকেন। শহরবাসীর জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কী করবেন ও কী করবেন না তার একটি বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। মাত্র দু’সপ্তাহে আগেই সুপার সাইক্লোন উমফানের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গের কী অবস্থা হয়েছে, তা দেখে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে উদ্ধব ঠাকরে সরকার। পুলিশ ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই যেসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা আছে সেখান থেকে ১৯ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিম্ন উপকূলবর্তী এলাকা থেকেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোয়া এবং মুম্বইয়ের ডপলার র্যাডার থেকে ক্রমাগত নজর রাখা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের দিকে। র্যাডারে জানা গিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের চোখের পরিধি প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। তবে ল্যান্ডফলের সময় সেই পরিধি কিছুটা কমবে। যদিও ঝড়ের গতি ক্রমাগত বাড়ছে বলেই জানা গিয়েছে।
মুম্বইয়ে মেরিন ড্রাইভের কাছে মানুষ বা গাড়ির যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ নিয়ম না মানলে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিসিএ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে সব বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে।
মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, ল্যান্ডফলের সময় প্রায় সাড়ে ৬ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস দেখা যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের উপকূলবর্তী এলাকায় ৩০টির বেশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরি রাখা হয়েছে। এক একটি দলে ৪৫ জন করে কর্মী রয়েছেন। আরও দলকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনডিআরএফ প্ররধান এস এন ঠাকুর।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সচিবালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। সেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনীকে আইএমডির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়েছে তাদের।
ইতিমধ্যেই গুজরাত সরকারও উপকূলবর্তী ৪৭টি গ্রাম থেকে ২০ হাজারের মতো গ্রামবাসীকে সরিয়ে এনেছে। উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নৌকো ও মার্চেন্ট নেভির জাহাজদের ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।