দ্য ওয়াল ব্যুরো: জামিয়া মিলিয়ার বাইরে প্রতিবাদী ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। টুইট করে লিখলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরনের ঘটনাকে বরদাস্ত করবে না। কোনও ভাবেই রেয়াত করা হবে না অপরাধীকে।”
এদিন দুপুরের একটি ঘটনাই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে সারা দেশে। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর গুলি চালায় এক যুবক। সংবাদ সংস্থা এএনআই সিবিএসস্যার একটি মার্কশিট দিয়ে দাবি করেছে, অভিযুক্ত নাবালক। বন্দুক চালাতে চালাতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ইয়ে লো আজাদি।’
এরপর বিরোধীরা একযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দিল্লির আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী হিসেবে অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যর্থ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
হিন্দিতে টুইট করে অমিত শাহ লেখেন, “গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে দিল্লির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি ওঁকে নির্দেশ দিয়েছি, অপরাধীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে। কোনও ভাবেই কালপ্রিটকে ছাড় নয়।”
https://twitter.com/AmitShah/status/1222858209079123969
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে রামভক্ত গোপাল নামের ওই হিন্দুত্ববাদীর গুলি চালানোর ভিডিও এবং ছবি। জামিয়া মিলিয়ার সামনে গুলি চালানোর ঘটনায় সাদাব আলম নামের এক ছাত্র জখম হয়েছেন। কিছুদিন আগেই দিল্লির একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর স্লোগান তুলেছিলেন, “দেশকি গদ্দারো কো…”, তাতে জনতা গলা মিলিয়েছিল, ” গোলি মারো শালো কো।” এর পরেই এভাবে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল প্রকাশ্য রাজপথে। বিরোধীরা সেটাকেই জুড়ে দিতে চেয়েছেন।
এদিন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সরাসরি আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। তিনি টুইট করে লেখেন, “প্রধানমন্ত্রীকেই জবাব দিতে হবে, যে তিনি কেমন দিল্লি বানাতে চাইছেন? তাঁরা কি হিংসা, অরাজকতার পক্ষে থাকবেন নাকি অহিংসার পক্ষে? তাঁরা কি উন্নয়নের পক্ষে থাকবেন নাকি এই সমস্ত ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটের পক্ষে?” অবশেষে টুইট করে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এবং মনোভাব জানালেন শাহ।