দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন অন্য কাশ্মীর। রক্তদান করে এক প্রসূতি ও সদ্যোজাতের প্রাণ বাঁচালেন এক সিআরপি জওয়ান। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই রক্তপাতের খবরেই শিরোনামে আসে কাশ্মীর। সাধারণ উপত্যকাবাসীর সঙ্গে জওয়ানদের সম্পর্কের কথাও সবারই জানা। কিন্তু সেই উপত্যকাতেই একেবারে অন্য ঘটনা।
সম্প্রতি কাশ্মীরের একটি হাসপাতালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হন গুলশনের এক তরুণী। সন্তান প্রসব করার পরই ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয় ওই মহিলার। হাসপাতালে তখন রক্ত নেই। কেন্দ্রীয়বাহিনীর হেল্পলাইন ‘মদদ্গর’-এর দ্বারস্থ হয় ওই তরুণীর পরিবার। সিআরপি-র ৫৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ান গোহিল শৈলেশ হাজির হন হাসপাতালে। রক্তের গ্রুপ মিললেও প্লাজমা ম্যাচ করার জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রায় আড়াই ঘণ্টা। তারপর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, শৈলেশের রক্ত নেওয়া যাবে। হাসি ফোটে পরিবারের মুখে।
মা এবং সদ্যোজাত কন্যা দু’জনকেই দেওয়া হয় জওয়ানের রক্ত। প্রাণ সংশয় থেকে ফিরে আসেন দু’জনই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সময়ে রক্তটা পাওয়া গেল বলেই, বাঁচানো গেল মা-মেয়েকে। সিআরপি-র অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডেল থেকে লেখা হয়, ‘রক্তের সম্পর্ক গড়ে উঠল। সন্তান প্রসবের সময় রক্তের প্রয়োজন ছিল ২৫ বছরের এক কাশ্মীরি মহিলার। রক্তদান করে ওই মহিলা ও তাঁর সদ্যজাত সন্তানের প্রাণ বাঁচালেন ৫৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কনস্টেবল গোহিল শৈলেশ। বাঁচালেন একটা গোটা পরিবারকেও।’ সিআরপি-র এই টুইটটি রিটুইট করেন অভিনেতা অনুপম খেরও।
২০১৭ সালে সিআরপি-র তরফে এই হেলফলাইন চালু করা হয়। যাতে উপত্যকাবাসী জরুরি পরিষেবায় জওয়ানদের পাশে পেতে পারেন। সেই হেল্পলাইনে এতদিন তেমন কোনও বড় সাফল্য না থাকলেও, এই ঘটনা অন্য মাত্রা জুগিয়েছে।
https://twitter.com/AnupamPKher/status/1119312876735533058