লকডাউনের ফলে ভারতে অপরাধের মাত্রা কমেছে: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে আপাতত ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন আরও বাড়ানো হবে কিনা সে ব্যাপারে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। কিন্তু এই লকডাউনের ফলে ভারতে অপরাধের মাত্রা কমেছে বলেই জানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপ
শেষ আপডেট: 27 April 2020 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে আপাতত ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন আরও বাড়ানো হবে কিনা সে ব্যাপারে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। কিন্তু এই লকডাউনের ফলে ভারতে অপরাধের মাত্রা কমেছে বলেই জানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে।
সোমবার এক সংবাদমাধ্যমকে প্রধান বিচারপতি জানান, “লকডাউনের ফলে আদালতের উপর চাপ কমেছে। এই বছর জানুয়ারি মাসে প্রতিদিন সুপ্রিম কোর্টে ২০৫টি করে মামলা দায়ের হয়েছে। অথচ এপ্রিল মাসে এখনও পর্যন্ত মোট ৩০৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এটা লকডাউনের ফলেই হয়েছে। চোররা এখন চুরি করতে যাচ্ছে না। অন্যান্য অপরাধের সংখ্যাও অনেক কমেছে। পুলিশ কেসের সংখ্যাও কমেছে। অপরাধের মাত্রা অনেকটাই কমে গিয়েছে।”
কেন্দ্রের কিছু কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে। এই ব্যাপারে নিজের বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “এই বিপদের সময়ে সরকারের তিনটে হাত ঠিকমতো এই একইভাবে কাজ করা উচিত। এই সময়ে আমাদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল ধৈর্য ধরে রাখা। সরকারের এই তিনটে হাতকে নিজের নিজের কর্তব্য পালন করতে হবে।”
বোবদে আরও বলেন, “এই ধরনের মহামারীর মতো সমস্যা প্রশাসনকে সামলাতে হয়। আমরা প্রশাসনকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কী ভাবে টাকা, লোকবল ও সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে সেটা ওদের ঠিক করতে হবে। প্রশাসনও কখনও চাইবে না, দেশের মানুষের জীবনকে বিপদে ফেলতে। যদি সেরকম কোনও ঘটনা হয় তাহলে আইন অবশ্যই সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।”
অপরাধের মাত্রা কমলেও তাঁদের কাজ কমেনি বলেই জানিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্রাম নিচ্ছি না। আমরা বিভিন্ন কেসের কাজ মেটানোর কাজ করছি। আমাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২১০ দিনই কাজ করছি আমরা।”
লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে যে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল সেই ব্যাপারেও নিজের বক্তব্য রাখেন বোবদে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কাজ করেছি। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি, এই মুহূর্তে অভিবাসী শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সেটা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের।”