
শেষ আপডেট: 30 March 2020 02:16
শাদা শার্টে জেলাশাসক, নীল ট্র্যাক প্যান্ট ও টিশার্টে সিপিএম বিধায়ক[/caption]
আদিবাসী অধ্যুষিত জেলা পাথানামথিট্টা। জল-জঙ্গল-নদী---প্রকৃতি উজাড় করে সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে কোন্নিতে। বলা চলে কেরলের জঙ্গলমহল। সেখানেই গত ৪৭ দিন ধরে দিনরাত এক করে পড়ে রয়েছেন এই সিপিএম বিধায়ক। কখনও মোটর সাইকেল তো কখনও কাঁধে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে নদী পেরিয়ে মানুষের দোরে দোরে পৌঁছে যাচ্ছেন ৪২ বছর বয়সী এই তরুণ বিধায়ক।রবিবার রাতে তাঁর সঙ্গে যখন ফোনে যোগাযোগ করা হল, তখন রাত পৌনে ন'টা। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় শুনে প্রথমেই জানিয়ে দিলেন, কথা বলতে পারবেন না। কারণ এক সন্তানসম্ভাবা মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর বিষয় তদারকি করছেন। মিনিট ২৫ পর নিজেই ফোন করলেন জেনিস কুমার।
গতবছর অক্টোবর মাসে কেরলের যে দু'টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল, কোন্নি তারমধ্যে একটি। জেনিস কুমারকে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। করোনা রুখতে কী করছেন জেনিস কুমার?
তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রে চারটে গণ-হেঁসেল খুলেছেন। একটিতে রান্নাবান্নার পুরো দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই। তারপর সেই রান্না করা খাবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া, সবটাই করছেন ডিওয়াইএফআই থেকে উঠে আসা এই নেতা।
তাঁর কথায়, "সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে যা যা করতে হয় তাই করব।" কী ভাবে চলছে গোটা প্রক্রিয়া? বিধায়কের জবাব, "সরকার আর পার্টির রাজ্য কমিটির গাইডলাইন মেনে যা করার করছি।" কী আছে সেই গাইডলাইনে? সিপিএম বিধায়ক বললেন, "প্রতিটা অঞ্চলে চারটে করে টিমে ভাগ করা হয়েছে সরকারি আধিকারিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের। একটি টিম রেশন দেখে। দ্বিতীয় টিমের দায়িত্ব রান্না খাবার পৌঁছে দেওয়া। কোন বাড়িতে কার কী ওষুধ বা অন্যান্য জিনিস লাগবে সেসব খোঁজ রাখে এবং পৌঁছে দেয় তৃতীয় টিম। চতুর্থ টিমের দায়িত্ব রোস্টার আপডেট করা। সরকারি দফতরে রিপোর্ট পাঠানো এবং সরকারি নির্দেশ এলে তা অন্যান্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।"
বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে জেনিসের। রাতে যখন ফেরেন তখন ঘুমিয়ে পড়ে দুই সন্তান। আবার সকালে উঠে যখন বেরিয়ে পড়েন, তখনও ঘুমোচ্ছে ওরা। বললেন, "কতদিন যে দুই ছেলের সঙ্গে কথা বলিনি!"
দিনে দু'বার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ফোন করে তথ্য নেন। আক্ষেপের সুরেই জেনিস বলেন, "আমাদের রাজ্যের উপর দিয়ে একের পর এক ঝড় যাচ্ছে। কয়েক বছর আগে নিপা ভাইরাস, তারপর বন্যা। এবার করোনাভাইরাস।" সঙ্গে সঙ্গে আবার আত্মবিশ্বাসী গলায় বলে উঠলেন, "ওগুলো সামলে নিয়েছে কেরালা। এবারও পারবে। ঠিক পারবে।"