দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলির জন্য নয়া অ্যাডভাইজরি জারি করল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর। সেখানে বলা হয়েছে, কন্টেইনমেন্ট জোনে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের সবার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, যেখানে সংক্রমণ অনেক বেশি, যেখানে এই নিয়ম মানতেই হবে। চাহিদা অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষার নির্দেশিকাও জারি করেছে আইসিএমআর। বলা হয়েছে, যাঁরা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে যাতায়াত করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দরকার পড়লে যাত্রার আগে কোভিড পরীক্ষা করতে পারে রাজ্যগুলি। তবে রাজ্যগুলি দরকার পড়লে এই অ্যাডভাইজরিতে কিছু বদল করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
আইসিএমআরের এই অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, “যদি র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ফল নেগেটিভ হওয়ার পরেও কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে তাঁর আরটি-পিসিআর টেস্ট করতে হবে। কন্টেইনমেন্ট জোনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১০০ শতাংশ বাসিন্দার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করাতে হবে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সংক্রমণের মাত্রা খুব বেশি হওয়ায় সেখানে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক।”
ভারতের সর্বোচ্চ মেডিক্যাল বডির অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, “টেস্টের অভাবে কোনও জরুরি প্রক্রিয়া যেন বন্ধ না থাকে। বিশেষ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় যেন গর্ভবতী মহিলাদের কোনও হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া না হয়।”
এই অ্যাডভাইজরিতে নমুনা পরীক্ষার পদ্ধতির উপরেও জোর দিয়েছে আইসিএমআর। বলা হয়েছে, “কন্টেইনমেন্ট জন্য রুটিন নজরদারি চালানোর জন্য প্রাধান্য দেওয়া হবে র্যাপিড অ্যাটিজেন টেস্টের উপর। কিন্তু কন্টেইনমেন্ট জোনের বাইরে নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হবে আরটি-পিসিআর টেস্টের উপর। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হবে আরটি-পিসিআর টেস্টের উপরেই।”
র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে সাধারণত রিপোর্ট খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। অন্যদিকে আরটি-পিসিআর টেস্ট করতে সময় লাগে কিছুটা বেশি। কিন্তু আইসিএমআর এর আগেও অনেকবার জানিয়েছে, যথাযথ রিপোর্টের ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর টেস্টের বিকল্প কিছু নেই। চিকিৎসক মহলের দাবি সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা তা জানার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্ট সবথেকে যথাযথ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছে প্রশাসন। আর তাই র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হচ্ছে।