দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের করোনা সংক্রমণে নিজামুদ্দিনের তবলিঘ-ই-জামাতের জমায়েত কতটা গুরুতর ভূমিকা নিয়েছে তা বোঝাতে গতকাল কয়েকটি তথ্য দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের সার্বিক সংক্রমণের পরিসংখ্যান দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল জানালেন, ভারতে প্রতি ৪.১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। নিজামুদ্দিনের জমায়েত না হলে তা হতে ৭.৪ দিন সময় লাগত।
নিজামুদ্দিন ঠিক কতটা শক্তিশালী হটস্পট তা এই তথ্য থেকেই পরিষ্কার। যার মূল কথা, ওই জমায়েতের জন্যই ভারতে প্রায় অর্ধেক সময়ে সংক্রামিতের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছিল, দেশে মোট আক্রান্তের ৩০ শতাংশ নিজামুদ্দিনের জমায়েতে ছিলেন।
দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ওই জমায়েতে আনুমানিক ন'হাজার লোক ছিলেন। জামাতের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহেই কয়েক হাজার ভারতীয় জামাত সদস্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। বিদেশিরাও ঘুরে বেড়িয়েছেন এদিক সেদিক। যা সংক্রমণের সম্ভাবনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত সপ্তাহেই কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলিকে অ্যাডভাইজারি পাঠিয়ে বলা হয়েছিল নিজামুদ্দিন ফেরত জামাত সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার বন্দোবস্ত করুক প্রশাসন। নাহলে বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। ৭৩ জন জামাত সদস্য নিজামুদ্দিন থেকে বাংলায় ফিরেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও গত শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ৫৪ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের খোঁজ মিলেছে।
ইতিমধ্যেই বাংলায় নিজামুদ্দিন ফেরত একজনের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ মিলেছে। হলদিয়া বন্দরের ঠিকা শ্রমিক বেলাল খান আপাতত বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পর্যবেক্ষকদের মতে এই ধরনের ভাইরাসের প্রকোপে একজনও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে এখনও পর্যন্ত দেশের ২৭৪টি জেলায় করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। দেশে মোট জেলার সংখ্যা ৭৩৬টি। যার অর্থ এখনও দেশের ৪৬২টি জেলায় করোনা সংক্রমণ ছড়ায়নি। তবে এতে প্রশাসনিক মহলে যাতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস না তৈরি হয় সে ব্যাপারেও সতর্ক করেছে কেন্দ্র।
জাতির উদ্দেশে দ্বিতীয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি হিসেব দিয়ে বুঝিয়েছিলেন করোনা সংক্রমণ কী ভাবে ছড়ায়। তিনি বলেছিলেন, ইউরোপ, আমেরিকা থেকে দেখা যাচ্ছে প্রথম এক লক্ষ মানুষ সংক্রামিত হচ্ছেন ৬৭দিনে। সেই সংখ্যা দু'লক্ষে পৌঁছতে সময় লাগছে ১১দিন। তারপর মাত্র চার দিনে আরও একলক্ষ সংক্রামিত হচ্ছেন। সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি যখন এই মাত্রায় তখন বোঝাই যাচ্ছে নিজামুদ্দিন ঠিক কতটা ভয়াবহ ভূমিকা নিয়েছে ভারতে সংক্রমণের ক্ষেত্রে।