দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানাল ভারতে দাবানলের মতো ছড়িয়েছে কোভিড সংক্রমণ। নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও প্রোটোকল ঠিকভাবে ফলো না করার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আগামীদিনে আরও বেশি নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অশোক ভুষণ, আর সুভাষ রেড্ডি ও এম আর শাহের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, “বিশ্ব জুড়ে সবাই বিভিন্ন ভাবে এই সংক্রমণের জন্য সমস্যায় পড়েছে। কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে এটা একটা বিশ্বযুদ্ধ।” তারপরেই বিচারপতিরা বলেন, আরও বেশি নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। যদি প্রশাসন কার্ফু বা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেটা সবাইকে অনেক আগে থেকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন বিচারপতিরা।
দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যারা কোভিড ১৯ গাইডলাইন ও প্রোটোকল ভাঙছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে। তার জন্য ফুড কোর্ট, রেস্তোরাঁ, সব্জি বাজার, সব্জি মাণ্ডি, বাস স্টপ, রেল স্টেশন প্রভৃতি জায়গায় আরও বেশি নজরদারির কথা জানিয়েছে বেঞ্চ। কারণ এই সব জায়গায় অনেক বেশি জমায়েত হয়। তাই সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
সংক্রমণ শুরু হওয়ার প্রথম দিকে জমায়েতে অনেক বেশি কড়াকড়ি করেছিল কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি। কিন্তু আনলক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে তাতে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর এই ছাড় দেওয়ার ফলেই সংক্রমণ আরও ছড়িয়েছে বলেই নিজেদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাই দেশের শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, কোনও রকমের উৎসব বা অনুষ্ঠানের জন্য জমায়েতের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়, আর তা দেওয়া হলেও কত লোক আসছে সেদিকে নজর দিতে হবে।
সেইসঙ্গে আরও বেশি কোভিড পরীক্ষার কথাও বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা বলেন, “কোভিড টেস্ট যেন স্বচ্ছ হয়, ঠিকঠাক পরিসংখ্যান সবার সামনে আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সেটা না হলে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে। তার ফলে অনেক আক্রান্তের খবর কেউ জানতে পারবে না। তাতে সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে।”
এমনকি নাইট কার্ফুর উপরেও জোর দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, যেখানে সম্ভব সেখানে যেন নাইট কার্ফু রাখা হয়। তাহলে একটা সময় রাস্তায় মানুষ কম বের হবেন। কিন্তু এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা আগে থেকে জানিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সেইসঙ্গে কোভিড যোদ্ধাদের যথাযথ বিশ্রামের প্রসঙ্গও তুলেছেন বিচারপতিরা। তাঁদের বক্তব্য, “সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশ্রাম গুরুত্ত্বপূর্ণ। তাঁরা গত আট মাস ধরে এভাবে কাজ করতে করতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিশ্চয় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই তাঁদের বিশ্রাম কীভাবে দেওয়া যায় সেটাও ভাবতে হবে প্রশাসনকে।”